শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সে পিপিপি মডেল আনছে সরকার, চাওয়া হয়েছে আরও ১০ বিলিয়ন রুপি
শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাতীয় বিমান সংস্থা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। সংস্থাটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী অনুরা কুরানাথিলাকে এক টেলিভিশন আলোচনায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে করদাতাদের অর্থ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বিমান সংস্থাকে পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রায় ৯০ বিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি ব্যয় হতে পারে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি দিতে হবে। এর পাশাপাশি বিমান সংস্থাটি তাদের চলমান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন রুপি সহায়তার আবেদনও করেছে।
অনুরা কুরানাথিলাকে বলেন, “এই পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কখনও বিমানে ভ্রমণ করেননি, কিন্তু তাদের দেওয়া করের অর্থ দিয়েই বিমান সংস্থাটিকে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ন্যায্য নয়।”
এ কারণে সরকার এখন বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে একটি নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পুরো বিনিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রীর আশা, চলতি বছরের মধ্যেই উপযুক্ত বিনিয়োগকারী পাওয়া সম্ভব হবে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকার সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে না। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব বজায় রাখা হবে। তার মতে, জাতীয় সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে তিনি কোভিড-১৯ মহামারির সময় চীনে আটকে পড়া শ্রীলঙ্কান শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এছাড়া ভারতে সড়ক দুর্ঘটনার পর আটকে পড়া স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ফ্লাইট পরিচালনার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অবকাঠামো সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটির আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালন দক্ষতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পিপিপি উদ্যোগ সফল হলে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের আর্থিক চাপ কমবে এবং জাতীয় বিমান সংস্থাটি নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
