ড্রোন আতঙ্কে মিউনিখ বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বন্ধ ফ্লাইট চলাচল
মিউনিখ বিমানবন্দরে সন্দেহজনক একটি ড্রোন শনাক্ত
জার্মানির অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর মিউনিখ বিমানবন্দরে সন্দেহজনক একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর শনিবার সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুনরায় স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার সকাল প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে মিউনিখ বিমানবন্দরের আকাশসীমার কাছে একটি ড্রোন উড়তে দেখেন দুটি পৃথক বিমানের পাইলট। তারা বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে অবহিত করেন। পাইলটদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জার্মান বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, জার্মান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক মিনিটের জন্য সব ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত রাখা হয়। একই সঙ্গে ড্রোনটির অবস্থান এবং এর পরিচালনাকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।
তবে ঘটনার পরপরই ড্রোনটি কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছিল বা কারা এর নিয়ন্ত্রণে ছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনী বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই রানওয়ে পুনরায় চালু করা হয় এবং নির্ধারিত ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে যাত্রীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি বা দীর্ঘমেয়াদি সময়সূচি বিপর্যয় সৃষ্টি হয়নি। যদিও কয়েকটি ফ্লাইট সামান্য বিলম্বিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দরের কাছাকাছি অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন আধুনিক বিমান চলাচলের জন্য একটি গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি। উচ্চগতিতে চলমান যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে ড্রোনের সংঘর্ষ ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ড্রোন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ড্রোনের কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করছে, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে অননুমোদিত ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা বাড়ছে। মিউনিখ বিমানবন্দরের সর্বশেষ ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশসীমায় ড্রোন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
