যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ‘রিমোট টার্মিনাল’ চালু করছে বোস্টন লগান বিমানবন্দর
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই চেক-ইন, লাগেজ জমা এবং নিরাপত্তা তল্লাশির কাজ সম্পন্ন
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন লগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রীসেবায় নতুন এক যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে একটি “রিমোট টার্মিনাল” বা দূরবর্তী বিমানবন্দর টার্মিনাল ব্যবস্থা, যেখানে যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই চেক-ইন, লাগেজ জমা এবং নিরাপত্তা তল্লাশির কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফ্রেমিংহ্যাম শহরে অবস্থিত এই সুবিধাটি আগামী ১ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে।
বোস্টন লগান বিমানবন্দর পরিচালনাকারী ম্যাসপোর্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ) যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় ডেল্টা এয়ার লাইনস ও জেটব্লু এয়ারওয়েজের যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে অবস্থিত ফ্রেমিংহ্যাম কেন্দ্রেই তাদের যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন।
যাত্রীরা প্রথমে রিমোট টার্মিনালে গিয়ে চেক-ইন করবেন, লাগেজ জমা দেবেন এবং টিএসএ নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। এরপর তারা একটি বিশেষ নিরাপত্তা-সুরক্ষিত বাসে উঠবেন, যা সরাসরি বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপদ এলাকায় প্রবেশ করবে। ডেল্টার যাত্রীরা গেট এ-১৮ এবং জেটব্লুর যাত্রীরা গেট সি-৮ এর কাছে নামতে পারবেন। একই সময়ে যাত্রীদের চেক-ইন করা লাগেজ সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিমানে পাঠানো হবে।
ম্যাসপোর্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড ডেভির মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রকৃত রিমোট টার্মিনাল ব্যবস্থা, যেখানে যাত্রা শুরু হবে কোনো বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং একটি পৃথক পরিবহন কেন্দ্রে। তিনি জানান, প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় স্থাপনা নির্মাণ এবং অন্যান্য শহরেও এ ধরনের টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে প্রতি বাসে ৫৫ জন যাত্রী পরিবহন করা হবে এবং ভোর ৪টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় একটি করে বাস চলবে। একমুখী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ ডলার, তবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য যাত্রা বিনামূল্যে। যাত্রীরা ৯০ দিন আগে থেকে কিংবা যাত্রার মাত্র ৯০ মিনিট আগেও আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন।
রিমোট টার্মিনালে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০টি পার্কিং স্থানের ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রতিদিন পার্কিং খরচ হবে ৭ ডলার। নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট, অপেক্ষাকক্ষ, তথ্য প্রদর্শন বোর্ড এবং লাগেজ স্ক্রিনিং ব্যবস্থাসহ এটি অনেকটাই ছোট আকারের বিমানবন্দর টার্মিনালের মতো।
ম্যাসপোর্ট জানিয়েছে, উদ্বোধনের আগেই ৭০০-এর বেশি যাত্রী এই সেবা ব্যবহারের জন্য নিবন্ধন করেছেন। কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগ বিমানবন্দরের যানজট কমাবে, যাত্রীদের সময় বাঁচাবে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিমানবন্দরের জন্যও একটি নতুন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
