বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা ২ কর্মদিবসে প্রক্রিয়া করবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ কয়েক মাসের সীমাবদ্ধতার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে অভিবাসী ভিসা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, এখন থেকে সব ধরনের অভিবাসী ভিসা আবেদন মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
রোববার (৩১ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এ তথ্য জানায়। দূতাবাসের ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ থেকে নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এর ফলে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছিল। সে সময় অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, তালিকাভুক্ত কিছু দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলক বেশি হারে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন, যার ব্যয় বহন করতে হয় দেশটির করদাতাদের। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে সেই স্থগিতাদেশ কার্যত তুলে নেওয়া হয়েছে এবং আবেদনকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, অভিবাসী ভিসার সব ক্যাটাগরির আবেদন এখন দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা হবে।
অভিবাসী ভিসার আওতায় সাধারণত মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী, বাগদত্তা বা বাগদত্তা, দত্তক নেওয়া সন্তান, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্য এবং চাকরির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হন। এসব শ্রেণির আবেদনকারীরা নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে দূতাবাস আবেদনকারীদের ভিসার বিভিন্ন শ্রেণি ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে ‘ডিরেক্টরি অব ভিসা ক্যাটাগরিজ’ পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত পরিবার পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান এবং বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
