ওসমানী বিমানবন্দরের কার্গো জটিলতা দূর করতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
কার্গো ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, কার্যকর ও গতিশীল করতে উচ্চপর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, কার্যকর ও গতিশীল করতে উচ্চপর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি বিমানবন্দরভিত্তিক কার্গো সেবার মান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
রবিবার (৩১ মে) দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিমানবন্দরগুলোর কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রমে বিদ্যমান জটিলতা দূর করে এটিকে একটি কার্যকর রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য, মৎস্যপণ্য এবং অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সভায় আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাস নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে পণ্য খালাসে বিলম্ব, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুদামজাত সুবিধার উন্নয়ন, পণ্য পরিবহনে সময় কমানো এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিমানবন্দরকেন্দ্রিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।
সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিমানবন্দরভিত্তিক কার্গো ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা দ্রুত ও সহজ সেবা পাবেন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সিলেট ও শাহজালাল বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে আরও শক্তিশালী ও দক্ষ কার্গো নেটওয়ার্ক।
