জ্বালানি ব্যয়ে চাপে বিশ্ব বিমান শিল্প
যাত্রী সংখ্যা ও আয়ের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে থাকলেও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্প বড় ধরনের মুনাফা সংকটে পড়তে পারে
যাত্রী সংখ্যা ও আয়ের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে থাকলেও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্প বড় ধরনের মুনাফা সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আইএটিএর সর্বশেষ আর্থিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী বিমান সংস্থাগুলোর সম্মিলিত নিট মুনাফা ২ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে নেমে আসতে পারে। অথচ এর আগে সংস্থাটি ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিল। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতের নিট মুনাফা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শিল্পটির মুনাফা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ বাণিজ্যিক আকাশপথ পরিচালনাকারী ৩৭০টির বেশি বিমান সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন আইএটিএ বলছে, বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ জ্বালানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় ছিল প্রায় ২৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। চলতি বছর তা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে ৩৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে এভিয়েশন শিল্পের মোট পরিচালন ব্যয় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে নেতিবাচক আর্থিক চিত্রের মধ্যেও যাত্রী পরিবহনে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইএটিএর হিসাবে, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫১০ কোটি যাত্রী আকাশপথে ভ্রমণ করবেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিমান সংস্থাগুলোর আয়ও বাড়বে, কিন্তু বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সেই আয়ের বড় অংশ খেয়ে ফেলবে।
আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক পরিবেশকে কঠিন করে তুলেছে। তার মতে, যাত্রী চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও ব্যয় নিয়ন্ত্রণই এখন এয়ারলাইন্সগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে ২০২৬ সাল বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্পের জন্য প্রবৃদ্ধি ও মুনাফার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি কঠিন বছর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
