শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় হর্ন বাজিয়ে জরিমানা
বিমানবন্দরসংলগ্ন ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করায় একটি যাত্রীবাহী পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করেছে ট্রাফিক পুলিশ।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন ঘোষিত নীরব এলাকায় হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করায় একটি যাত্রীবাহী পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। একই সঙ্গে গাড়িটিতে ব্যবহৃত হর্ন জব্দ করা হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রোববার উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রুবেল হকের নেতৃত্বে বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ঢাকা থেকে শেরপুরগামী একটি যাত্রীবাহী পরিবহনে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এডিসি রুবেল হক বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন) স্থাপনা। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং যাত্রীসেবার স্বার্থে এ এলাকাকে নীরব অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এখানে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তিনি জানান, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার শুধু শব্দদূষণই সৃষ্টি করে না, এটি জনসাধারণের জন্যও বিরক্তিকর এবং নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১৯(২) ধারায় সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও জরিমানা করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা সরকারিভাবে নীরব অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং বিভিন্ন হাসপাতালের চারপাশের ১০০ মিটার এলাকা। এসব স্থানে যানবাহনের হর্ন বাজানো আইনত নিষিদ্ধ।
২০০৬ সালের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী, নীরব এলাকায় দিনের বেলায় ৫০ ডেসিবেল এবং রাতের বেলায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা, মামলা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এডিসি রুবেল হক বলেন, নীরব এলাকার পরিবেশ বজায় রাখতে ট্রাফিক বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। চালক, পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
উত্তরা ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় শব্দদূষণ কমিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এতে যাত্রী, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
