আইএটিএ কমাল বিমান কার্গো প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বিমান কার্গো খাতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বিমান কার্গো খাতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)। সংস্থাটির সর্বশেষ আর্থিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী বিমানপথে কার্গো পরিবহনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭ কোটি ১৭ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ০.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এর আগে মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড কার্গো সিম্পোজিয়ামে আইএটিএ ২০২৬ সালে কার্গো খাতে ২.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে মার্চে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক বিমান কার্গো চাহিদা বছরে ৪.৮ শতাংশ কমে যায়। যদিও পরবর্তী মাসে চাহিদা আবার ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবুও বড় বড় উপসাগরীয় বিমানবন্দর ও কার্গো হাবের কার্যক্রমে বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে।
আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট পুনর্গঠনে বাধ্য করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক রুটে কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা সীমিত করে দিচ্ছে। তবে বছরের প্রথম চার মাসে কার্গো টন-কিলোমিটার (সিটিকে) হিসাবে বৈশ্বিক কার্গো পরিবহন এখনো ৩.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
কার্গো পরিবহনের পরিমাণে প্রবৃদ্ধি কমলেও রাজস্ব বৃদ্ধির আশা করছে আইএটিএ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিমান কার্গো খাতের মোট আয় ১৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে, যা ২০২৫ সালের ১৫১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৭.২ শতাংশ বেশি। মূলত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর সমন্বয় করার কারণে এ আয় বৃদ্ধি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি ব্যয়ও এ বছর এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মার্চের শুরুতে হরমুজ প্রণালির সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক জেট ফুয়েল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ফলে অনেক এয়ারলাইন্স অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করতে বাধ্য হয়। আইএটিএর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫২ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক এয়ারলাইন্স শিল্পের মোট মুনাফাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে শিল্পটির মুনাফা ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমে ২৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএটিএ। সংস্থাটি মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ আগামী মাসগুলোতে বিমান কার্গো বাজারকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
