বেবিচকের প্রকৌশলীর নিয়োগ অবৈধ হতে পারে, বলছে জামুকা

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শরিফুল ইসলামের নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শরিফুল ইসলামের নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বলছে, তার পিতার নাম গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় না থাকলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পাওয়া চাকরির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ বিষয়ে বর্তমানে একাধিক সংস্থার তদন্ত চলমান রয়েছে।

জামুকার ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমির হামজা জানিয়েছেন, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। অভিযোগের মূল বিষয় হলো, তার পিতা মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এবং সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে শরিফুল ইসলামের চাকরি লাভ।

তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় মোশাররফ হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি। ফলে তার মুক্তিযোদ্ধা সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জামুকার মতে, কেবলমাত্র গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারাই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকলেও যদি তার নাম সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে তিনি বা তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।

তবে বেবিচকের পক্ষ থেকে এখনো জামুকার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মতামত চাওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বলেন, শরিফুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত সব নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে জামুকার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত চাওয়া হবে।

জানা গেছে, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বর্তমানে বেবিচক, গোয়েন্দা সংস্থা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের পৃথক তদন্ত চলছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চাকরির সময় জমা দেওয়া তার পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সেখানে কিছু অসঙ্গতির প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শরিফুল ইসলাম ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি বেবিচকে যোগদান করেন এবং বর্তমানে সদর দপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পিতা মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদের ভিত্তিতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি লাভ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, ১৯৯৯ সালে ইস্যুকৃত একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি গেজেট তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম না পাওয়ায় সনদের সত্যতা ও বৈধতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.