শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯৪ লাখ টাকার স্বর্ণসহ আটক ৬

প্রায় ৯৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ ছয়জনকে আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে প্রায় ৯৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ ছয়জনকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। বুধবার (১১ জুন) ভোরে বিমানবন্দরের সরকারি খোলা পার্কিং এলাকার দক্ষিণ পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫৯৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৪০ টাকা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. মনির হোসেন, কাজী মাসুদ, সাইদুল ইসলাম, ইলিয়াছ খাঁন, সাব্বির মিয়া এবং মো. কামাল হোসেন। এপিবিএন জানিয়েছে, ভোর সোয়া চারটার দিকে বিমানবন্দর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় তাদের নজরে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা একটি মাইক্রোবাসে করে দ্রুত এলাকা ত্যাগের চেষ্টা করেন। তবে এপিবিএনের সদস্যরা তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হন।

পরে আটক ব্যক্তিদের এপিবিএন কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় তাদের হেফাজত থেকে মোট ৫৯৭ দশমিক ৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারগুলো ২২ ক্যারেট মানের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছেন যে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অজ্ঞাত যাত্রীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে আনা স্বর্ণ তারা সংগ্রহ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের রিসিভার হিসেবে তারা কাজ করে আসছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। চোরাচালানের মাধ্যমে আনা এসব স্বর্ণ দেশের বাজারে সরবরাহ করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি (১)(বি) ধারায় বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, আসামিরা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি, বহন ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যা দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ বিষয়ে ১৩ এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত সব ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম দমনে এপিবিএন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং বৈধ বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.