হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা
নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বুধবার (১১ জুন) স্থানীয় সময় সকালে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত জানায়। কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ের আঞ্চলিক সংঘাত পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হওয়ায় কুয়েত সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ‘ইরানি আগ্রাসনের’ আশঙ্কা সামনে রেখে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় দেশটির সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে উল্লেখ করে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে এবং যেকোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ফ্লাইট পরিচালনা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাত্রীবাহী ও কার্গো ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আকাশসীমা বন্ধের ফলে কুয়েতগামী এবং কুয়েত থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটগুলোতে ফ্লাইট সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বিমান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়েতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেলে আঞ্চলিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়। অনেক ফ্লাইটকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হতে পারে, যা সময় ও জ্বালানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।
এদিকে যাত্রীদের জন্য বিমান সংস্থাগুলো বিকল্প ব্যবস্থা ও রি-রাউটিং পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে। তবে পরিস্থিতি কতক্ষণ স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কূটনৈতিক মহল বলছে, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিমান চলাচলসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
