বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের উড়োজাহাজ লিজিং কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে বিশ্বখ্যাত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করেছে

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের উড়োজাহাজ লিজিং কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে বিশ্বখ্যাত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করেছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি একটি রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (আরএফপি) প্রকাশ করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এভিয়েশন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে বিশেষজ্ঞ সহায়তা পাওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড়োজাহাজ অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন, লিজ চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দরকষাকষি, কারিগরি মূল্যায়ন, লিজ মেয়াদকালীন তদারকি ও নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিতকরণ এবং চুক্তির মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করবে।

আরএফপি অনুযায়ী, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণের জন্য আবেদন করতে পারবে। আর কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব পৃথকভাবে আগামী ২৮ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উড়োজাহাজ লিজিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে পর্যাপ্ত বিশেষায়িত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক সময় সংস্থাটিকে অনুকূল নয় এমন চুক্তির শর্ত মেনে নিতে হয়েছে। পাশাপাশি বহর ব্যবস্থাপনা এবং লিজ চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক মানের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে বিমান লিজিং প্রক্রিয়ায় আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এতে চুক্তি আলোচনায় সংস্থার দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়বে, ব্যয় কমবে এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক হারে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক লিজিং বাজারে উপলব্ধ উন্নতমানের উড়োজাহাজ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য ও মূল্যায়ন পাওয়ার ফলে বিমান বহর আধুনিকায়নের কার্যক্রমও আরও গতিশীল হতে পারে। কারিগরি মূল্যায়ন ও লিজ মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ ফেরত দেওয়ার সময় বিশেষজ্ঞ তদারকি থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ, অতিরিক্ত ব্যয় এবং জরিমানার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বহু-বছর মেয়াদি কার্যক্রম শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালন দক্ষতাই বাড়াবে না, বরং ভবিষ্যতে সংস্থাটিকে আরও লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN