ফ্লাইট বিলম্ব, লাগেজ হারিয়ে বিশ্বকাপ ক্যাম্পে সেনেসি
লিওনার্দো বালের্দির অনাকাঙ্ক্ষিত চোট আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে মার্কোস সেনেসির জন্য
লিওনার্দো বালের্দির অনাকাঙ্ক্ষিত চোট আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে মার্কোস সেনেসির জন্য। শেষ মুহূর্তে ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়ে স্বপ্নপূরণের আনন্দে ভাসছেন ২৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। তবে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার যাত্রা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ফ্লাইট বিলম্ব, কারিগরি ত্রুটি এবং লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার মতো একের পর এক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অবশেষে আর্জেন্টিনা শিবিরে পৌঁছাতে হয়েছে তাকে।
বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যামের হয়ে খেলা সেনেসি কোচ লিওনেল স্কালোনির ফোন পাওয়ার সময় স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ ইবিজায় ছুটি কাটাচ্ছিলেন। জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটিতে অবস্থিত আর্জেন্টিনা দলের বেস ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
তার যাত্রাপথের প্রথম গন্তব্য ছিল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট। সেখান থেকে শিকাগো পৌঁছানোর পরই শুরু হয় ভোগান্তি। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে তার কানেক্টিং ফ্লাইট প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বিত হয়। এতে নির্ধারিত সময়সূচি পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে যায়।
কিন্তু দুর্ভোগ এখানেই শেষ হয়নি। পরে ক্যানসাস সিটির উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার পর যাত্রীদের জানানো হয়, উড্ডয়নের আগে নতুন করে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে সবাইকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পরে, রাত দেড়টার দিকে আর্জেন্টিনা দলের ক্যাম্পে পৌঁছান সেনেসি।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ক্যানসাস সিটি বিমানবন্দরে অবতরণের পর। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার মূল লাগেজ বা স্যুটকেসটি পৌঁছেনি। সঙ্গে থাকা একটি ছোট হ্যান্ড ব্যাগের ওপর নির্ভর করেই তাকে প্রথম কয়েক ঘণ্টা কাটাতে হয়। পরে আর্জেন্টিনা দলের প্রশাসনিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করে হারিয়ে যাওয়া লাগেজটি খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন এবং তা ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এত দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণের পরও সেনেসি বিশ্রাম না নিয়ে দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দেন। শনিবার তিনি আর্জেন্টিনার প্রথম অনুশীলন সেশনেও অংশ নেন। মূলত নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পেশির চোট এবং লিওনার্দো বালের্দির ছিটকে যাওয়ার কারণে স্কালোনি তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেন।
বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত সেনেসি বলেন, “বিশ্বকাপে খেলা প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন। আমি খুবই আনন্দিত। একই সঙ্গে বালের্দির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য এই সুযোগকে শতভাগ কাজে লাগানো এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখা।”
