দুবাইগামী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ বীমা চালু করতে যাচ্ছে এমিরেটস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে ভ্রমণ বীমা নিয়ে যাত্রীদের উদ্বেগ দূর করতে নতুন উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে ভ্রমণ বীমা নিয়ে যাত্রীদের উদ্বেগ দূর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা এমিরেটস। দুবাইগামী এবং দুবাই হয়ে অন্য দেশে ট্রানজিট করা যাত্রীদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ বীমা পণ্য চালুর লক্ষ্যে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি।

এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট টিম ক্লার্ক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন বীমা প্যাকেজটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হবে এবং যাত্রীরা বিদেশে আটকে পড়লে তাদের নিজ দেশে ফেরার নিশ্চয়তা দেবে। এমনকি ফেরার ফ্লাইট এমিরেটসের না হলেও যাত্রীদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

টিম ক্লার্ক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রীর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো বিদেশে গিয়ে আটকে পড়ার আশঙ্কা। তাই যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর সমাধান তৈরির চেষ্টা করছে এমিরেটস।

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশ এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি রেখেছে। এসব সতর্কতার ফলে নতুন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভ্রমণ বীমার অনেক সুবিধা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ বীমা কোম্পানি যুদ্ধ বা সশস্ত্র *পরিস্থিতি সংক্রান্ত ঝুঁকিকে কভারেজের বাইরে রাখে। ফলে অনেক যাত্রী ক্ষতিপূরণের দাবি করার সময় গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন।

যদিও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং, তারপরও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন। সংকট শুরুর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। তবে ধীরে ধীরে যাত্রীর সংখ্যা আবার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন টিম ক্লার্ক। তিনি বলেন, লন্ডন থেকে পরিচালিত কয়েকটি ফ্লাইটে আসন চাহিদা এত বেশি যে সেগুলো প্রায় পূর্ণ অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধঝুঁকি মোকাবিলায় এমিরেটস নিজস্ব বিমানের জন্য অতিরিক্ত বীমা প্রিমিয়ামও পরিশোধ করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো বহরের জন্য সংস্থাটি প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করছে। বীমা খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হার তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবতরণকারী কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারলাইনকে প্রতি ফ্লাইটে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত বীমা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংকট শুরু হওয়ার মাত্র চার দিনের মধ্যেই এমিরেটস তাদের বেশিরভাগ সেবা পুনরায় চালু করে এবং দ্রুত সক্ষমতার ৪০ শতাংশে ফিরে আসে। টিম ক্লার্কের দাবি, দুবাইয়ের আকাশসীমা সুরক্ষায় গৃহীত ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে, যার ফলে বিমান চলাচল নিরাপদ রাখতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.