শাহজালাল বিমানবন্দরে আটক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাছির আদনান। হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি হিসেবে তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে আটক

কাতার থেকে দেশে ফিরেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাছির আদনান। হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি হিসেবে তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কাতার থেকে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান বাছির আদনান। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া চলাকালে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য যাচাই করে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাছির আদনান কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। তিনি একই সঙ্গে দেবিদ্বার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া আব্দুর রাজ্জাক রুবেল হত্যা মামলা এবং আবু বকর হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাছির আদনান আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি দেশ ছেড়ে কাতারে চলে যান এবং সেখানে অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তবে দেশে পৌঁছানোর পরই বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে তিনি আটক হন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, বাছির আদনানের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত আব্দুর রাজ্জাক রুবেল হত্যা এবং আবু বকর হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সে অনুযায়ী বিমানবন্দর থেকে তাকে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিদেশে অবস্থানরত এবং দেশে ফিরে আসা অভিযুক্তদেরও বিমানবন্দরে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আইন অনুযায়ী পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.