২০৫০ সাল পর্যন্ত আকাশে উড়বে মার্কিন কিংবদন্তি C-5 Galaxy
লকহিড সি-৫ গ্যালাক্সি (Lockheed C-5 Galaxy)-কে আরও অন্তত ২০৫০ সাল পর্যন্ত সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বৃহৎ কৌশলগত পরিবহন উড়োজাহাজ লকহিড সি-৫ গ্যালাক্সি (Lockheed C-5 Galaxy)-কে আরও অন্তত ২০৫০ সাল পর্যন্ত সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৬০ বছর আগে প্রথমবারের মতো আকাশে উড়লেও বিশাল আকারের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে এখনো এর সমকক্ষ কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি। এ কারণেই পুরোনো হলেও এই বিমানকে বহরে রাখার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সি-৫ গ্যালাক্সির যাত্রা শুরু হয় শীতল যুদ্ধের সময়। সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন একটি পরিবহন বিমানের প্রয়োজন ছিল, যা ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, সামরিক হেলিকপ্টার, ভারী অস্ত্র এবং অন্যান্য বড় আকারের সরঞ্জাম হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে একটানা পরিবহন করতে পারবে। সেই চাহিদা পূরণ করতেই তৈরি করা হয় এই বিশাল কার্গো উড়োজাহাজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্বের কোনো বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখনো এমন একটি বিমান তৈরি করতে পারেনি, যা সি-৫ গ্যালাক্সির মতো একই পরিমাণ ভারী ও অতিরিক্ত বড় সামরিক সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম। ফলে এটি এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি অপরিহার্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন বিমান বাহিনী বলছে, নতুন প্রজন্মের একটি কৌশলগত পরিবহন বিমান তৈরি করতে গবেষণা, নকশা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং উৎপাদনে দীর্ঘ সময় লাগবে। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই বিদ্যমান সি-৫ গ্যালাক্সি বহরকে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে উন্নত করে আরও কয়েক দশক ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সি-৫ গ্যালাক্সির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বিশাল বহনক্ষমতা। এটি একসঙ্গে একাধিক সামরিক যান, হেলিকপ্টার, ভারী অস্ত্র, উদ্ধার সরঞ্জাম কিংবা মানবিক সহায়তার বিপুল পরিমাণ মালামাল বহন করতে পারে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে দ্রুত সেনা ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সি-৫ গ্যালাক্সিকে অবসর দিলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক অভিযান এবং জরুরি লজিস্টিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। কারণ বর্তমানে এমন কোনো বিমান নেই, যা একই ধরনের কৌশলগত পরিবহন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক এভিওনিক্স ও ইঞ্জিন ব্যবহারের মাধ্যমে সি-৫ গ্যালাক্সিকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সচল রাখা হবে। এর ফলে বহরের কিছু উড়োজাহাজের কার্যকর সেবাজীবন ৬০ বছরেরও বেশি হবে, যা সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন কোনো সমমানের কৌশলগত পরিবহন বিমান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সি-৫ গ্যালাক্সিই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে থাকবে। এর অসাধারণ বহনক্ষমতা, দীর্ঘ পাল্লার উড্ডয়ন সক্ষমতা এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণেই কিংবদন্তি এই উড়োজাহাজ আরও বহু বছর আকাশে সক্রিয় থাকবে।
