কায়রো বিমানবন্দরে ১৩৬ ফ্লাইট বিলম্ব, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের পরিচালনাগত জটিলতার কারণে শতাধিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।

মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের পরিচালনাগত জটিলতার কারণে শতাধিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। ১৭ ও ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে মোট ১৩৬টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পরিচালিত হয়েছে এবং একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আমেরিকাগামী আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি মিশরের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটঅ্যাওয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমন ও প্রস্থানের সময়সূচিতে বড় ধরনের জট তৈরি হয়। এর ফলে বিমানবন্দরজুড়ে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, সংযোগ ফ্লাইট মিস এবং সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিশরের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ইজিপ্টএয়ার। সংস্থাটির মোট ৬০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া নাইল এয়ার-এর ১৩টি ফ্লাইটও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিচালিত হতে পারেনি। বাতিল হওয়া একমাত্র ফ্লাইটটি ছিল এয়ার অ্যারাবিয়া ইজিপ্ট পরিচালিত একটি সেবা।

আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যেও এই বিলম্বের প্রভাব দেখা গেছে। এমিরেটস-এর ৬টি, কাতার এয়ারওয়েজ-এর ৫টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং রয়্যাল জর্ডানিয়ান-এর একাধিক ফ্লাইটও নির্ধারিত সময়সূচি থেকে পিছিয়ে যায়।

বিলম্বের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ফ্লাইটও প্রভাবিত হয়েছে। প্যারিস, মিলান, এথেন্স, আমস্টারডাম, লন্ডন হিথ্রো, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও জুরিখগামী ফ্লাইটগুলোতে উল্লেখযোগ্য দেরি দেখা গেছে। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট—রিয়াদ, দুবাই ও দোহাগামী ফ্লাইটেও সময়সূচির পরিবর্তন করতে হয়েছে।

দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটও এই জটিলতা থেকে রেহাই পায়নি। নিউইয়র্ক (জেএফকে), শিকাগো ও’হেয়ার এবং টরন্টো পিয়ারসনগামী ফ্লাইটগুলোও বিলম্বের মুখে পড়ে। এছাড়া মিশরের জনপ্রিয় পর্যটন শহর হুরগাদা, শার্ম আল শেখ, লুক্সর ও আসওয়ানগামী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও প্রভাব পড়ে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সংযোগ ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তিনটি টার্মিনালের মধ্যে যাতায়াতে স্বয়ংক্রিয় ‘পিপল মুভার’ ট্রেন ও শাটল বাস ব্যবহার করতে হয়। তাই ভিন্ন টার্মিনাল থেকে সংযোগ ফ্লাইট থাকলে অন্তত দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দীর্ঘ সময় বিলম্বিত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রীদের খাবার, পানীয় এবং প্রয়োজন হলে হোটেল সুবিধা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার রয়েছে বলে মিশরের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ বিমান সংস্থার সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.