৫০০ কর্মী ছাঁটাই, একাধিক রুট বন্ধ করছে এর লিঙ্গাস
আয়ারল্যান্ডের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা এর লিঙ্গাস (Aer Lingus) ব্যয় কমানো এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় ধরনের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
আয়ারল্যান্ডের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা এর লিঙ্গাস (Aer Lingus) ব্যয় কমানো এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় ধরনের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ারলাইনটি ৫০০ জন কর্মী ছাঁটাই, একাধিক আন্তর্জাতিক রুট বন্ধ এবং কয়েকটি গন্তব্যে সারা বছরের পরিবর্তে মৌসুমি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূল প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স গ্রুপ (IAG)-এর কাছ থেকে নতুন বিনিয়োগ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঘোষণা অনুযায়ী, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে ৭০ জন পাইলট, ১৪০ জন কেবিন ক্রু এবং প্রধান কার্যালয়ের ২৯০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেবিন ক্রুদের প্রতিনিধিত্বকারী ফোরসা (Fórsa) শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনটি বাধ্যতামূলক ছাঁটাই এড়াতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডাবলিন–ডেনভার, মিনিয়াপোলিস, লাস ভেগাস এবং স্প্লিট রুটে ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ করবে এর লিঙ্গাস। এছাড়া সিয়াটল, ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ এবং মাল্টা রুটে সারা বছর ফ্লাইট পরিচালনার পরিবর্তে শুধু গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে এয়ারলাইনটির মোট আসন সক্ষমতা বা ক্যাপাসিটি প্রায় ৬ শতাংশ কমে যাবে। সংস্থার ভাষ্য, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ডাবলিন বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত অন্যান্য এয়ারলাইন্সের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর লিঙ্গাসের মূল প্রতিষ্ঠান IAG, যার মালিকানায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, আইবেরিয়া ও ভুয়েলিং-ও রয়েছে, নতুন বিনিয়োগের জন্য সংস্থাটিকে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পরিচালন মুনাফা (Operating Margin) অর্জনের লক্ষ্য দিয়েছিল। কিন্তু এর লিঙ্গাস সর্বশেষ বছরে প্রায় ১০ শতাংশ পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের নিচে।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটিএ (IATA)-র তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বিমান শিল্পে গড় পরিচালন মুনাফা মাত্র ৬.৯ শতাংশ, আর প্রকৃত নিট মুনাফা প্রায় ৩.৯ শতাংশ। ফলে IAG-এর নির্ধারিত লক্ষ্য অনেকটাই উচ্চাভিলাষী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্ত শত শত কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলবে। একই সঙ্গে পাইলট ইউনিয়নের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ভবিষ্যতে এর লিঙ্গাস কোন ধরনের ব্যবসায়িক কৌশল অনুসরণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে এর লিঙ্গাস একটি কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। একদিকে ব্যয় কমিয়ে লাভ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে প্রিমিয়াম সেবা বজায় রাখতে বিনিয়োগও প্রয়োজন। ব্যয় সংকোচনের ফলে সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রিমিয়াম যাত্রী হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কর্মী ছাঁটাই ও রুট পুনর্গঠনের এই পরিকল্পনা এয়ারলাইনটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।