বহর বাড়াতে ৩ ড্রিমলাইনার লিজ নেবে বিমান বাংলাদেশ

তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ড্রাই লিজে (Dry Lease) নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রস্তাব আহ্বান করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ড্রাই লিজে (Dry Lease) নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রস্তাব আহ্বান করেছে। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৫ জুলাই প্রকাশিত রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) অনুযায়ী, বিমান বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন, উড়োজাহাজ মালিক, অপারেটর, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে ৭২ মাস বা ছয় বছরের জন্য তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ ড্রাই লিজের প্রস্তাব চেয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার মধ্যে প্রস্তাব জমা দিতে হবে।

ড্রাই লিজ হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে লিজদাতা শুধুমাত্র উড়োজাহাজ সরবরাহ করে। পাইলট, কেবিন ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা এবং পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকে লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ওপর। অর্থাৎ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিজস্ব জনবল ও পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমেই উড়োজাহাজগুলো পরিচালনা করবে।

বিমানের শর্ত অনুযায়ী, লিজ নেওয়া উড়োজাহাজগুলোর বয়স ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৫ বছর হতে পারবে। প্রতিটি উড়োজাহাজে GEnx-1B74/75 ইঞ্জিন থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ ২৫৪ টন টেক-অফ ওজন বহনের সক্ষমতা থাকতে হবে। একই লিজদাতার কাছ থেকে একই ধরনের (সিস্টার-শিপ) উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে তা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রতিটি ড্রিমলাইনারে দুই শ্রেণির (বিজনেস ও ইকোনমি) কেবিন বিন্যাসে ৩০০টির বেশি আসন থাকতে হবে। সব আসন নতুন হতে হবে এবং উড়োজাহাজগুলোকে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায়, বৈধ এয়ারওয়ার্দিনেসরেজিস্ট্রেশন সনদসহ বিমানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া লিজ শুরুর আগে প্রতিটি উড়োজাহাজে নতুন করে সি-চেক (C-Check) সম্পন্ন থাকতে হবে এবং প্রথম ২৪ মাসে কোনো বড় ধরনের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন যেন না পড়ে, সেই শর্তও দেওয়া হয়েছে।

আরএফপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উড়োজাহাজগুলোতে আধুনিক অ্যাভিওনিক্স, ইঞ্জিন হেলথ মনিটরিং, এয়ারক্রাফট হেলথ মনিটরিং, ফ্লাইট ডাটা মনিটরিং, TCAS Version 7.1, ACARS, টেরেইন অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ওয়ার্নিং সিস্টেম (TAWS), স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সর্বশেষ GPS/GNSS নেভিগেশন প্রযুক্তি থাকতে হবে। একই সঙ্গে এগুলোকে FAA, EASA এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর সব নিয়ম মেনে পরিচালনাযোগ্য হতে হবে।

বিমান আরও জানিয়েছে, উড়োজাহাজগুলো ডেলিভারির আগে লিজদাতার খরচেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব লিভারিতে রঙ করা হবে। পাশাপাশি যাত্রী ও ক্রুদের জন্য দুই বেলা প্রধান খাবার এবং দুই বেলা হালকা খাবার পরিবেশনের উপযোগী গ্যালি সুবিধাও থাকতে হবে।

আর্থিক প্রস্তাবে প্রতিটি উড়োজাহাজের মাসিক লিজ ভাড়া, রক্ষণাবেক্ষণ সংরক্ষণ তহবিল (Maintenance Reserve) এবং নিরাপত্তা জামানতের তথ্য আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে। বিমান আশা করছে, প্রতিটি উড়োজাহাজ বছরে প্রায় ৪,০০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন করবে।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৩৭ এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮-৪০০। নতুন তিনটি ড্রিমলাইনার যুক্ত হলে বিমানের দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নতুন গতি পাবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN