বাংলাদেশ-সৌদি রুটে আরও ৩৫ সাপ্তাহিক ফ্লাইটের প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণ এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌদি আরব সফরে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণ এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌদি আরব সফরে যাচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলটি সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হবে। সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে নতুন বিমান চলাচল চুক্তি চূড়ান্ত করা এবং অতিরিক্ত ৩৫টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করা।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ ছিদ্দিক। দলে আরও রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) ড. এবিএম মাহবুব আলম এবং বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী মো. সফিউল আজম।

সফরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকায়ন, আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলোর ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লটসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন এয়ারলাইনস মিলিয়ে সপ্তাহে মোট ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। তবে সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী, সারা বছর ওমরাহ যাত্রী এবং হজ মৌসুমের অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ বিবেচনায় এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে বাংলাদেশ। এ কারণে সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪-এ উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। অর্থাৎ বিদ্যমান সূচির সঙ্গে আরও ৩৫টি ফ্লাইট যুক্ত করার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম এবং মদিনা রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে টিকিট সংকট কমবে, যাত্রীদের ভ্রমণ আরও সহজ হবে এবং প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে বিমান ভাড়াও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ করে হজ মৌসুমে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ ও উড্ডয়নের সুবিধাজনক স্লট পেতে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে স্লট বরাদ্দ, অনুপযোগী সময়ে ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি বা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ফ্লাইট বিলম্ব এবং যাত্রী ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এতে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যায়।

সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের স্লট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠক করবে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের অপারেশনাল সমস্যা এবং সুবিধাজনক সময়ে স্লট বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে। বেবিচকের আশা, এ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ আরও জোরদার হবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি যাত্রী ও এয়ারলাইনসগুলো আরও উন্নত সেবা পাবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN