বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ১৭ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন
দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, সমন্বিত এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ১৭ সদস্যের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার।
দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, সমন্বিত এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ১৭ সদস্যের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। কমিটির সহসভাপতি থাকবেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা)।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রথম সভা আগামী ৬ আগস্ট বেবিচকের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানবন্দরের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় কৌশলগত সুপারিশ করবে এই কমিটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইসিএও (ICAO)-এর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করা, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার দায়িত্বও পালন করবে তারা।
এ ছাড়া নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়েও সুপারিশ করবে জাতীয় কমিটি। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে উপকমিটি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়। বছরে অন্তত দুইবার কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের বিমানবন্দরগুলোকে আরও নিরাপদ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কমিটির কার্যকর ভূমিকা দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।