যান্ত্রিক ত্রুটিতে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব, অবশেষে জেদ্দার পথে বিমানের ফ্লাইট
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ২২ ঘণ্টা বিলম্বের পর অবশেষে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে রওনা হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ২২ ঘণ্টা বিলম্বের পর অবশেষে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে রওনা হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট। দীর্ঘ এই বিলম্বে বিশেষ করে ওমরাহযাত্রীসহ শতাধিক যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে মেরামতের পরই নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সব ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করার পর বিমানটি নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি বিজি-২৩৫ ফ্লাইট হিসেবে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। ঢাকায় নির্ধারিত যাত্রী ওঠানোর পর সেখান থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
জানা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে সিলেট থেকে সরাসরি জেদ্দার উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিমানটি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে উড়োজাহাজটি রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করছিল। এ সময় পাইলট ককপিটের প্রযুক্তিগত সতর্কবার্তার মাধ্যমে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি শনাক্ত করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজটি রানওয়েতে প্রবেশ না করে ট্যাক্সিওয়েতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত করা হয়।
পরে সিলেট ও ঢাকা থেকে আসা বিমানের প্রকৌশলীরা যৌথভাবে উড়োজাহাজটির বিভিন্ন কারিগরি অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মেরামতের কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, যন্ত্রাংশ পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা যাচাই শেষে ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে দূর করা হয়। এরপর উড়োজাহাজটিকে পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী ঘোষণা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়।
দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে থাকায় যাত্রীদের অনেকেই ভোগান্তির মুখে পড়েন। বিশেষ করে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য খাবার এবং নগরীর বিভিন্ন হোটেলে রাতযাপনের ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিয়মিতভাবে ফ্লাইটের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করেই সব ধরনের কারিগরি ত্রুটি শতভাগ নিশ্চিতভাবে সমাধান করার পর উড়োজাহাজটি ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ বিমান পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।