জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ২১%, বাড়তে পারে বিমানভাড়া
বাংলাদেশে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ২১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বাংলাদেশে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ২১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। জ্বালানির দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে বিমান টিকিটের দামও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (৯ আগস্ট) এক আদেশে আগস্ট মাসের জন্য জেট এ-১ জ্বালানির নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নতুন দাম একই দিন রাত থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ০৩৫৮ ডলার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এয়ারলাইনসের মোট পরিচালন ব্যয়ের বড় একটি অংশ জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয়। ফলে জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে সরাসরি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ সামাল দিতে টিকিটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে এয়ারলাইনসগুলো।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে। ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জেট এ-১-এর আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং বিপিসির ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে আগস্ট মাসের জন্য নতুন দর নির্ধারণ করা হয়।
এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোফিজুর রহমান বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসগুলোর ব্যয়ের চাপ বাড়বে। এর প্রভাব যাত্রীদের বিমানভাড়ায় পড়তে পারে। তার মতে, জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ২৩০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছালে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়ানো যৌক্তিক হতে পারে।
বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় টিকিটের দামের মাধ্যমে সমন্বয় করা না হলে এয়ারলাইনসগুলো লোকসানে পড়তে পারে।
এদিকে এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, দুই সপ্তাহ পরও যদি জ্বালানির দাম না কমে, তাহলে পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিমানভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ফলে জেট ফুয়েলের নতুন দাম দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের আকাশপথে ভ্রমণের খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।