ঢাকা-সিলেট রুটে বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের দাবি

বাংলাদেশে বিমান এখন আর কেবল বিলাসিতার বাহন নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক কাজ ও জরুরি প্রয়োজনে এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম।

বাংলাদেশে বিমান এখন আর কেবল বিলাসিতার বাহন নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক কাজ ও জরুরি প্রয়োজনে এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে অস্বাভাবিক ভাড়া সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট রুটে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সিলেট-ঢাকা রুটের দূরত্ব প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল হলেও অনেক সময় একমুখী ভাড়া ১২ হাজার টাকারও বেশি নির্ধারণ করা হয়। দূরত্ব, জ্বালানি ব্যয় এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ রুটের ভাড়ার সঙ্গে তুলনা করলে এ ভাড়া অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হয়।

উচ্চ ভাড়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, বিদেশগামী যাত্রী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের অনেক সময় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে বিমান ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সড়ক ও রেল যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে বিমাননির্ভরতা বাড়লেও ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সিলেট দেশের অন্যতম প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরতে ঢাকা যাতায়াত করেন। ফলে অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়া বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী পরিবারগুলোর ওপরও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ বিমানবাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একই সময়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ভাড়া প্রায় একই পর্যায়ে থাকলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আনা প্রয়োজন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) আরও সক্রিয় নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পাশাপাশি মূল ভাড়া, সারচার্জ, ভ্যাট ও অন্যান্য ফি আলাদাভাবে স্পষ্টভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা করা উচিত।

জনস্বার্থে উচ্চচাহিদাসম্পন্ন অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যৌক্তিক সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ভাড়া কাঠামো পর্যালোচনা প্রয়োজন।

সিলেটের বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সিলেটের যাত্রীদের নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে পারে।

বিমানভাড়া এখন আর বিলাসী কোনো বিষয় নয়। এটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা, প্রবাসসংযোগ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই স্বচ্ছ ভাড়ানীতি, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, প্রকৃত প্রতিযোগিতা এবং যাত্রীস্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.