মুনাফার চাপে কাতার এয়ারওয়েজসহ উপসাগরীয় এয়ারলাইনগুলো
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় ও আকাশসীমায় বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধের কারণে মুনাফার চাপে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক এয়ারলাইন।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় ও আকাশসীমায় বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধের কারণে মুনাফার চাপে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক এয়ারলাইন। শক্তিশালী যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের মুনাফা ৯ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুয়েতভিত্তিক স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন জাজিরা এয়ারওয়েজও মুনাফা কমার মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন কুয়েতি দিনারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
মধ্যপ্রাচ্যের বড় এয়ারলাইনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ যাত্রী চাহিদার সুবিধা পেলেও চলতি বছরে জ্বালানি ব্যয়, আকাশসীমা পরিবর্তন এবং রুট ঘুরিয়ে পরিচালনার কারণে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে। এমিরেটস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, ওমান এয়ার ও সৌদিয়াসহ অন্যান্য ক্যারিয়ারও একই ধরনের পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
আঞ্চলিক আকাশসীমায় বিধিনিষেধের কারণে অনেক ফ্লাইটকে বিকল্প পথে পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে ফ্লাইটের সময় ও দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে। একই সঙ্গে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হওয়ায় বিমান ও ক্রু ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারলাইনগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই জ্বালানি। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি মুনাফায় প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত উড্ডয়ন সময়, দীর্ঘ রুট এবং পরিবর্তিত ফ্লাইট পরিকল্পনা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এয়ারলাইনগুলো রুট অপ্টিমাইজেশন, সক্ষমতা ব্যবস্থাপনা এবং সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের মতো কৌশল গ্রহণ করছে।
জাজিরা এয়ারওয়েজের ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও মুনাফায় প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে এমিরেটস ও ইতিহাদের মতো বড় ক্যারিয়ারগুলো নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা ও বহর সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ করছে, যা স্বল্পমেয়াদে আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় দোহা, দুবাই ও আবুধাবি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হওয়ায় এসব অঞ্চলের আকাশপথে পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ-এশিয়া রুটে বিকল্প পথ নিতে হলে যাত্রার সময় বাড়তে পারে এবং সংযোগকারী ফ্লাইট ধরার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় রাখা প্রয়োজন হতে পারে।
তবে যাত্রী চাহিদা শক্তিশালী থাকায় উপসাগরীয় এয়ারলাইনগুলোর প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। জ্বালানি ব্যয় ও আকাশসীমার চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে এসব এয়ারলাইন আবারও মুনাফা বৃদ্ধির পথে ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।