অতিরিক্ত ফ্লাইটে চাপের মুখে শাহজালাল বিমানবন্দর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ও যাত্রীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ও যাত্রীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সীমিত অবকাঠামোর বিপরীতে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার কারণে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ওপর বাড়ছে কর্মচাপ, পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি ও ফ্লাইট পরিচালনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ছয়টি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সক্ষমতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় ২২টি বিমান আগমন ও প্রস্থান করলে নিয়ন্ত্রকদের কর্মচাপ ‘ওভারলোডেড’ পর্যায়ে চলে যায়। এ অবস্থায় নিরাপদ ও কার্যকরভাবে উড়োজাহাজের ওঠানামা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।

গত ১১ জুলাইয়ের একটি চিত্রও পরিস্থিতির চাপ তুলে ধরে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় শাহজালালে দেশি-বিদেশি মোট ২১টি বিমান আগমন ও প্রস্থান করে। অর্থাৎ ওভারলোডেড সীমার মাত্র এক ধাপ নিচেই উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে এটিসিকে।

শাহজালালের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো এটি একটি ‘জয়েন্ট এয়ারফিল্ড’। এখানে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের পাশাপাশি সামরিক জেট, প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারও চলাচল করে। ফলে এটিসিকে একই সময়ে বেসামরিক ও অন্যান্য উড্ডয়ন কার্যক্রম সমন্বয় করতে হয়। আকাশে উড়োজাহাজের অবস্থান নির্ধারণ, অবতরণ ও উড্ডয়নের সময় ঠিক করা এবং রানওয়ে ব্যবহারের সমন্বয়—সবকিছুই নিয়ন্ত্রকদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

এই বাস্তবতায় প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮টি বিমান আগমন ও প্রস্থান পরিচালনার সক্ষমতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার স্বার্থে শীত মৌসুমের ফ্লাইটসূচি তৈরির সময় এই সীমাবদ্ধতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শুধু এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, টার্মিনাল অবকাঠামোর সক্ষমতাও উদ্বেগের কারণ। বোর্ডিং ব্রিজ, ডিপার্চার লাউঞ্জ, অ্যারাইভাল ব্যাগেজ বেল্ট ও চেক-ইন কাউন্টারের সক্ষমতাও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক, প্রশিক্ষণ ও হেলিকপ্টার চলাচলও অব্যাহত থাকবে। ফলে বিমানবন্দরের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্লাইট সংখ্যা নির্ধারণে শুধু রানওয়ে বা আকাশসীমার সক্ষমতা নয়, অবতরণ থেকে যাত্রী নামানো, ব্যাগেজ সংগ্রহ, চেক-ইন, বোর্ডিং এবং পুনরায় উড্ডয়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে এই চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.