থার্ড টার্মিনাল চালু নিয়ে বিমানমন্ত্রীর নতুন বার্তা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের মান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে সফট ওপেনিং এক থেকে দুই মাস পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিমানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, থার্ড টার্মিনালের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেবে। এরপর দরপত্রগুলো বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করা সম্ভব হবে।

চুক্তি সইয়ের পর হাতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় থাকবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা গেলে ১৬ ডিসেম্বরই সফট ওপেনিং করা হবে। তবে কাজের মান ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হলে এক থেকে দুই মাস সময় বাড়ানো হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হবে।

তিনি বলেন, আপাতত ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনাল চালুর পাশাপাশি বিমানবন্দরের সার্বিক পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিমানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান। উড়োজাহাজ সংকটের কারণে বর্তমানে বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা মোকাবিলায় পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন করে ২০২৭ সাল থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া নিউইয়র্ক ও সিডনিসহ নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) অডিটে প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে বিমানবন্দরটিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, বিদ্যমান প্রায় ৬ হাজার ফুট রানওয়ে আরও ২ হাজার ৫০০ ফুট বাড়ানো, সংস্কার এবং একটি ছোট টার্মিনাল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিমান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও পর্যটনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN