শাহজালালে মাদক ‘কুশ’ জব্দ, পালাল দুই ভারতীয়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪ কেজি উচ্চমূল্যের মাদক ‘কুশ’ জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪ কেজি উচ্চমূল্যের মাদক ‘কুশ’ জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় দুটি ট্রাভেল ট্রলি, দুই ভারতীয় নাগরিকের পাসপোর্টের ফটোকপি এবং মোট ৪ হাজার ১৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত দুই ভারতীয় নাগরিক।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিচতলায় আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম সেখানে অবস্থান নেয়। সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে দলটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে নজরদারি শুরু করে।

এর কিছুক্ষণ পর ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট ঢাকায় আসে। ফ্লাইটটির নম্বর ছিল TG321। ওই ফ্লাইটে করে ভারতের দুই নাগরিক আকাশ দুবে (২৮) ও আকাশ পান্ডে (৩৪) বাংলাদেশে আসেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বুঝতে পেরে দুই যাত্রী গ্রিন চ্যানেল এলাকায় তাদের সঙ্গে থাকা দুটি ট্রাভেল ট্রলি ফেলে দ্রুত সরে যান। পরে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এবং সাক্ষীদের সামনে ওই ট্রলি দুটির তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশির সময় দুটি ট্রলি থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের মাদক ‘কুশ’ উদ্ধার করা হয়। ডিএনসির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মাদকের মোট ওজন ৪ হাজার ১৮০ গ্রাম বা প্রায় ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম। ট্রলির সঙ্গে দুই ভারতীয় নাগরিকের পাসপোর্টের ফটোকপিও পাওয়া যায়। এসব নথির ভিত্তিতে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, পলাতক দুই ব্যক্তি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাসিন্দা। তারা কীভাবে মাদক সংগ্রহ করে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন এবং এর পেছনে কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর) বিমানবন্দর সার্কেলের উপপরিদর্শক রোকেয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, বাংলাদেশে এর সম্ভাব্য ক্রেতা বা সরবরাহকারী এবং আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.