ইরান উত্তেজনায় জর্জ ওয়াশিংটনে রাতের ফ্লাইট জোরদার

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে রাতের বেলায় বিমান পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে রাতের বেলায় বিমান পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে রণতরীটির ফ্লাইট ডেকে রাতের বেলায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। অন্ধকারের মধ্যেই ফ্লাইট ডেক প্রস্তুত করা, বিমান পরিচালনা এবং উড্ডয়ন-অবতরণের মতো কার্যক্রম চালানো হয়। তবে রাতের এই ফ্লাইট কার্যক্রমে কোন ধরনের বিমান কতগুলো অংশ নিয়েছে, সে বিষয়ে সেন্টকম বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন (CVN-73) নিমিটজ শ্রেণির পরমাণুচালিত বিমানবাহী রণতরী। এর স্ট্রাইক গ্রুপ নির্ধারিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে গত ১৯ আগস্ট মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছায়। রণতরীটি এমন সময়ে এই অঞ্চলে অবস্থান করছে, যখন ইরানকে ঘিরে সামরিক ও নৌ উত্তেজনা বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বাড়ছে।

মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক তৎপরতার মধ্যে রয়েছে সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ৬৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে পরিচালিত করেছে, তিনটি জাহাজ অচল করেছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, এই অবরোধ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে ইউএসএস রস রণতরীতে একটি MH-60R সি হক হেলিকপ্টার অবতরণের ছবিও প্রকাশ করেছে মার্কিন কমান্ড।

এর আগে আরব সাগরে উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস বক্সার থেকেও মার্কিন মেরিন কর্পসের MV-22B ওসপ্রে পরিচালনার তথ্য সামনে আসে। ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন নৌ ও বিমান সক্ষমতার সক্রিয় ব্যবহারের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও তা এখনো যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অনেক কম। ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (UKMTO) তথ্যের ভিত্তিতে করা সিএনএনের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বাড়লেও যুদ্ধপূর্ব সাত দিনের গড়ের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশে ছিল।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালী। তাই এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। পাশাপাশি রাতের ফ্লাইট কার্যক্রম জোরদার করাকে অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উচ্চমাত্রার প্রস্তুতি ও উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN