চালু হচ্ছে ব্যাংকক-অকল্যান্ড সরাসরি ফ্লাইট
ব্যাংকক থেকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে সরাসরি ফ্লাইট আবারও চালুর পরিকল্পনা করছে থাই এয়ারওয়েজ।
ব্যাংকক থেকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে সরাসরি ফ্লাইট আবারও চালুর পরিকল্পনা করছে থাই এয়ারওয়েজ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ব্যাংকক-অকল্যান্ড রুটে নিয়মিত ননস্টপ ফ্লাইট পুনরায় চালু হতে পারে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে এই রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর সম্ভাব্য সময় ২০২৮ সাল নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর এক বছর আগেই রুটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ২১ আগস্ট নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের আর্ডমোর বিমানবন্দরে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনজেডএঅ্যারোর হ্যাঙ্গার পরিদর্শনের সময় থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী একনিতি নিথিথানপ্রাপাস সংশোধিত সময়সূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, থাইল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার পর ব্যাংকক-অকল্যান্ড রুট দ্রুত পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় ২০২৭ সালের শুরুতেই রুটটি চালুর প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্চ ২০২৭কে সম্ভাব্য পুনরায় চালুর সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী একনিতি বলেন, এই রুট পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তবে সরাসরি প্রতিযোগিতার পরিবর্তে দুই দেশের এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে কোড-শেয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে উভয় দেশের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে থাই কর্তৃপক্ষ।
তবে ফ্লাইট চালুর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করছে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহের ওপর। দীর্ঘপথের এই রুট পরিচালনার জন্য থাই এয়ারওয়েজের পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ প্রয়োজন। নতুন বিমান হাতে পাওয়ার পরই রুটটির নির্দিষ্ট ফ্লাইট সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অকল্যান্ড বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগেভাগেই অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য প্রয়োজনীয় স্লট সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজ হাতে এলেই দ্রুত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা সম্ভব হবে।
থাই এয়ারওয়েজ ও এয়ার নিউজিল্যান্ড—দুই এয়ারলাইনই স্টার অ্যালায়েন্স জোটের সদস্য। তাই দুই প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতামূলকভাবে যুক্ত করতে কোড-শেয়ার চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে উভয় এয়ারলাইন্সের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যাত্রীদের জন্য আরও বিস্তৃত সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।
থাই এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ও দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ল্যাভারন সাংসনিতকে রুটটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকক ও অকল্যান্ডের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ আরও একবার চালু হবে এবং থাইল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের পর্যটন, বাণিজ্য ও যাত্রী যোগাযোগে নতুন গতি আসতে পারে।