আইকাও অডিটে প্রয়োজনীয় গ্রেড পেলেই জানুয়ারিতে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট

আইকাও অডিটে প্রয়োজনীয় গ্রেড পেলে জানুয়ারিতেই নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট

 

মুজিবুর রহমান মাসুদ, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নিউইয়র্ক ও সিডনি রুট চালুর পরিকল্পনা

বিমানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্ক ও সিডনিতে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিউইয়র্ক রুট চালুর ক্ষেত্রে আইকাওর নির্ধারিত নিরাপত্তা ও সক্ষমতার মান অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করা গেলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজের সংকট রয়েছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না।

১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার উদ্যোগ

উড়োজাহাজ সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তার ভাষ্য, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এ বিষয়ে চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বর্তমানে প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তিন গুণ করার সুযোগ রয়েছে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, যেসব গন্তব্যে বাংলাদেশের ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ রয়েছে কিন্তু উড়োজাহাজের অভাবে তা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না, সেসব রুটেও ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজ আসবে ২০৩১ সাল থেকে

বিমানবহর সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে দেশে আসবে। তবে তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং নতুন রুট সম্প্রসারণের জন্য লিজে উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানান তিনি।

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের লক্ষ্য

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চলতি মাসের ২৫ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেবে। এরপর বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চুক্তি সই করার আশা করা হচ্ছে।

চুক্তি সইয়ের পর হাতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সম্ভব হলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সময় আরও এক থেকে দুই মাস বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি। আপাতত ১৬ ডিসেম্বরের সফট ওপেনিংয়ের লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে।

যাত্রী হয়রানি বন্ধে ‘টিমওয়ার্ক’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাত্রী হয়রানি বন্ধে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে কিছুটা সফলতাও এসেছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান এখনো হয়নি।

তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘টিমওয়ার্কের মাধ্যমে বিমানকে আপনারা যে পর্যায়ে দেখতে চান, সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

কাজের ভিত্তিতে পুরস্কার ও পরিবর্তন

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পর্যটন, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

যারা দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর যারা দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন না, তাদের সম্মানের সঙ্গে সরিয়ে দিয়ে নতুন লোক আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব

বিমানবন্দর ও বিমানের পরিচ্ছন্নতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন বিমানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিমানের ভেতর পর্যন্ত সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

যাত্রীদের জন্য উন্নত ও রুচিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমানবন্দরে সেবার মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, ঈশ্বরদীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে এবং সেখানে ইউরেনিয়াম পরিবহনের প্রয়োজন হয়। সড়কপথে ইউরেনিয়াম পরিবহনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে বিকিরণজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে সরকার।

বর্তমানে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করে সেখানে অভ্যন্তরীণ কয়েকটি ফ্লাইট চালুর চেষ্টা করা হবে।

এর ফলে ঈশ্বরদীতে কর্মরত বিদেশিরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি ইউরেনিয়াম পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা, বিমানবহর সম্প্রসারণ এবং তৃতীয় টার্মিনালের কাজসহ বিমান খাতের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ও যাত্রীসেবায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.