ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় ভিয়েতনামে বিশেষ মহড়া
বিমানবন্দরে অননুমোদিত ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন আকাশযানের (UAV) অনুপ্রবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ মহড়া পরিচালনা করেছে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স।
বিমানবন্দরে অননুমোদিত ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন আকাশযানের (UAV) অনুপ্রবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ মহড়া পরিচালনা করেছে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স। ভিয়েতনাম এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন (VATM) এবং ভিয়েতনাম এয়ারপোর্টস কর্পোরেশন (ACV)-এর সহযোগিতায় ‘৩এ.২০২৬’ নামে এই সিমুলেশন মহড়া আয়োজন করা হয়।
ভিয়েতনামের বিমান চলাচল খাতে ড্রোনের ঝুঁকি সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ড্রোন-সম্পর্কিত ২২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যেগুলো সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনায় প্রভাব ফেলেছে। আরও ১৮টি ঘটনায় সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এসব ঘটনায় ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্নের পাশাপাশি সময়সূচি পরিবর্তন, ফ্লাইট দীর্ঘায়িত হওয়া এবং পরিচালন ব্যয় বাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ১১ ও ১৩ আগস্ট তান সন নাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরপর ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনায় রানওয়ে একাধিকবার সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। ফলে কয়েকটি ফ্লাইটকে আকাশে চক্কর দিতে এবং বিকল্প পথে পরিচালিত করতে হয়েছে। এসব ঘটনার পর বিমানবন্দরে ড্রোন অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
‘৩এ.২০২৬’ মহড়ায় বিমান চলাচল ব্যবস্থার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইনস—একসঙ্গে অংশ নেয়। মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল ড্রোন অনুপ্রবেশের মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, আদান-প্রদান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা পরীক্ষা করা।
সিমুলেশনে বিমানবন্দর এলাকায় একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা অনুশীলন করা হয়। এতে আকাশসীমা, রানওয়ে, ফ্লাইট পরিচালনা, পার্কিং এলাকা, টার্মিনাল, গ্রাউন্ড সার্ভিস, ফ্লাইট ক্রু ও যাত্রীসেবার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়। মহড়ার সব তথ্য ও পরিস্থিতি বাস্তব অপারেশনাল ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল, ফলে স্বাভাবিক ফ্লাইট কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি।
মহড়ায় VATM বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ফ্লাইট প্রবাহ ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করে। ACV বিমানবন্দর, এপ্রন ও টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলো পরীক্ষা করে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা, ফ্লাইট সময়সূচি, ক্রু ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীসেবা সমন্বয়ের সক্ষমতা যাচাই করে।
এই মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে তথ্য বিনিময়ের পদ্ধতি, সমন্বয়ের কেন্দ্র এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছে। পাশাপাশি বাস্তব ঘটনায় ফ্লাইট পরিচালনা দ্রুত স্বাভাবিক করার পরিকল্পনাও মূল্যায়ন করা হয়।
ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ‘নিরাপত্তাই প্রথম’ নীতিকে সামনে রেখে ড্রোনসহ যেকোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে VATM ও ACV-এর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পরিচালনগত বিঘ্ন কমিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ অব্যাহত থাকবে।