আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাজ্য ধীরে ধীরে ইউরোপের মতো ডিজিটাল ট্রাভেল অথরাইজেশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বাড়াচ্ছে। একই সময়ে রেকর্ড যাত্রীসংখ্যা সামলেও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট যাত্রীর অনুপাত আগের তুলনায় কমেছে। ফলে বৈশ্বিক বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে বড় হাবগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার ধরনও বদলাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ধাপে ধাপে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ETA) ব্যবস্থা চালু করছে। স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ ও ট্রানজিটের ক্ষেত্রে যেসব বিদেশি নাগরিকের পূর্ণ ভিসা প্রয়োজন হয় না, তাদের একটি বড় অংশকে আগাম ডিজিটাল অনুমোদনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ETIAS ব্যবস্থার সঙ্গেও এর মিল রয়েছে। ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারী অনেক যাত্রীকে এখন ভ্রমণের আগেই অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।
ইউরোপও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। শেনজেন অঞ্চলে ভবিষ্যতে Entry/Exit System (EES) এবং ETIAS ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের তথ্য ও প্রবেশের বিষয়গুলো আরও কাঠামোবদ্ধভাবে পরিচালিত হবে। এর ফলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বড় বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য আগাম যাচাই ও অনুমোদনের গুরুত্ব বাড়বে।
গালফ অঞ্চলের যাত্রীদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা পাওয়া দেশের নাগরিকদের ইউরোপ বা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ডিজিটাল অনুমোদন নিতে হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রাপথ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, Dubai International Airport-এর যাত্রীসংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে থাকলেও এর যাত্রী প্রবাহে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মহামারির আগে বিমানবন্দরটির বড় অংশের যাত্রী শুধুমাত্র ট্রানজিটের জন্য দুবাই ব্যবহার করতেন। বর্তমানে দুবাইয়ে পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ায় শহরটিকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।
এর অর্থ হলো, মোট যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও কেবল সংযোগের জন্য দুবাই ব্যবহার করা যাত্রীর অনুপাত আগের তুলনায় কমেছে। ফলে ইউরোপের ফ্রাঙ্কফুর্ট, প্যারিস, আমস্টারডাম ও মাদ্রিদের মতো বড় বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে ট্রানজিট যাত্রী আকর্ষণে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
ভবিষ্যতে যাত্রীরা শুধু টিকিটের দাম বা ফ্লাইটের সময় নয়, বরং ভিসা, ট্রানজিট নিয়ম, ডিজিটাল অনুমোদন ও যাত্রার সুবিধাকেও গুরুত্ব দেবেন। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনগুলোকে যাত্রীদের দ্রুত ও সহজ সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন সীমান্ত ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, রেকর্ড যাত্রীসংখ্যা ধরে রেখেও দুবাইয়ের ট্রানজিট নির্ভরতা কিছুটা বদলাচ্ছে। আর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ডিজিটাল সীমান্ত ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ভবিষ্যৎ কাঠামোকে আরও পরিবর্তন করছে।