লেবাননে ফের ইসরায়েলের বিমান হামলা

দক্ষিণ লেবাননে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

দক্ষিণ লেবাননে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক চুক্তি ও যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ আগস্ট) ভোরে লেবাননের তায়র জেলার মাজদাল জাউন শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। তবে হামলার পরপরই কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের ওই এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্য কী ছিল বা সেখানে কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে হামলায় বেসামরিক মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ঘটনা নতুন নয়। গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান মূলত হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও কার্যক্রমকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ও সীমান্তবর্তী কার্যক্রম তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে।

এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়মিত হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল ধীরে ধীরে লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা। একই সঙ্গে এসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার বিষয়টিও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে নতুন করে বিমান হামলার ঘটনায় চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও হিজবুল্লাহর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে হামলার পর লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ হতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো নতুন সামরিক অভিযান চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার, লেবাননের সেনা মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.