ভারতে নতুন বিমানবন্দর-বন্দর তৈরির উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গে বিমানবন্দর ও বন্দরের সংখ্যা বাড়িয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে বিমানবন্দর ও বন্দরের সংখ্যা বাড়িয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ, পুরনো বিমানবন্দরের পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন বন্দর তৈরির মাধ্যমে শিল্প-বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি মেগা কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারের আগামী দিনের পরিবহন পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কল্যাণীতে নতুন বিমানবন্দর তৈরির জন্য জমি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের আরও কয়েকটি বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোচবিহার, মালদা, বালুরঘাট এবং পুরুলিয়াকে বিমান পরিষেবার আওতায় আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের মতো তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী এলাকার সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। ব্যবসা, পর্যটন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডাতেও বিমান পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য রাজ্য সরকার জমি দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিমান যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়তে পারে।

বন্দর পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দাদনপাত্রবাড় এলাকায় নতুন বন্দর তৈরির জন্য জমি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে নতুন বন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সেই পরিস্থিতি বদলে নতুন বন্দর ও পরিবহন করিডোর গড়ে তোলার মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বন্দর ও বিমান যোগাযোগের উন্নয়ন শুধু যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পণ্য পরিবহন, রপ্তানি-আমদানি এবং শিল্পের প্রসারেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন বন্দর ও বিমানবন্দর তৈরি হলে বিভিন্ন অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিবেশও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

এদিকে নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় দুই হাজার শয্যার ওই হাসপাতালে ১ হাজার শয্যা দরিদ্র মানুষের জন্য প্রায় বিনামূল্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। বাকি শয্যাগুলো বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন বিমানবন্দর, বন্দর এবং বিদ্যমান বিমান পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আরও উন্নত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিল্প-বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN