৬ বছর পর গুয়াংজু-দিল্লি সরাসরি ফ্লাইট চালু
দীর্ঘ ছয় বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চীনের গুয়াংজু ও ভারতের নয়াদিল্লির মধ্যে সরাসরি নিয়মিত ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স।
দীর্ঘ ছয় বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চীনের গুয়াংজু ও ভারতের নয়াদিল্লির মধ্যে সরাসরি নিয়মিত ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে চীনের অন্যতম প্রধান এয়ারলাইন্সটি।
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের গুয়াংজু-নয়াদিল্লি রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি এই রুট চালু হওয়ায় চীন ও ভারতের মধ্যে যাত্রী ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, গুয়াংজু-নয়াদিল্লি ফ্লাইট পুনরায় চালুর পর দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের আটটি যাওয়া-আসা রুটে প্রতি সপ্তাহে ১০০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে চীনের বিমান যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের ভ্রমণের সুযোগও বাড়বে।
চীন ও ভারতের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পেছনে কোভিড-১৯ মহামারির পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ডোকলাম ও গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে বিমান যোগাযোগের ওপরও।
তবে চলতি বছর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করায় ধীরে ধীরে সরাসরি বিমান যোগাযোগও স্বাভাবিক হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়া চীন ও ভারতের মধ্যে পুনরায় ফ্লাইট চালু করে। এরপর এপ্রিল মাসে এয়ার চায়না বেইজিং-দিল্লি রুটে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করে।
এর আগে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স কুনমিং ও কলকাতার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করে। ভারতের আরেকটি বড় এয়ারলাইন্স ইন্ডিগোও চীনে তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। গত ৩০ মার্চ কলকাতা ও সাংহাইয়ের মধ্যে প্রথম সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে তারা। পরবর্তী সময়ে কলকাতা-গুয়াংজু এবং দিল্লি-চীন রুটেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে ইন্ডিগো।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শনিবার বিকেলে দুই নেতার বৈঠকের কথা রয়েছে। এর মধ্যেই গুয়াংজু-দিল্লি রুটে চায়না সাউদার্নের ফ্লাইট পুনরায় চালুর ঘোষণা দুই দেশের বিমান যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ফ্লাইট বাড়লে দুই দেশের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই অর্থনীতির মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ জোরদার হলে আঞ্চলিক বিমান পরিবহন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।