মক্কা চুক্তির পরই ইয়েমেনে সৌদির ব্যাপক বিমান হামলা

আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ‘মক্কা চুক্তি’র মতো কূটনৈতিক উদ্যোগের পরপরই ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে।

আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ‘মক্কা চুক্তি’র মতো কূটনৈতিক উদ্যোগের পরপরই ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। ইয়েমেনের চারটি প্রদেশে সৌদি বিমানবাহিনী অন্তত ৪০টি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম সাবা নিউজ এজেন্সি।

বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের আল-হাজম ও আল-ঘাইল জেলায় ১০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে মারিব প্রদেশের আল-জুবাহ এলাকায় আরও তিনটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া তাইজ প্রদেশের মাওজা, মাকবানাহ, মোকা জংশনসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৮টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, উপকূলীয় আল-হুদায়দাহ প্রদেশের আল-সালিফ, আল-তুহায়তা এবং কামারান দ্বীপ লক্ষ্য করেও আরও নয়টি হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে চার প্রদেশে হামলার সংখ্যা অন্তত ৪০টি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন বা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে হামলার সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে এসব হামলার খবর সামনে এসেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা ও দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করার পর থেকেই দেশটিতে সংঘাত তীব্র হয়। পরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন জানাতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।

এরপর থেকে ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বিমান হামলা ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় আঞ্চলিক ঐক্য ও শান্তির বার্তা দেওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগের পরপরই ইয়েমেনে বড় ধরনের বিমান হামলার অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ ঘটনার প্রভাব এবং ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.