এয়ার ট্রাফিক ত্রুটিতে যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট বিপর্যয়
যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে ভয়াবহ ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে ভয়াবহ ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে এরই মধ্যে এক হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এলবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর ওপর। হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টারসহ বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক যাত্রী আটকা পড়েন। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ উড়োজাহাজের ভেতরেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন।
ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে অনেক যাত্রীর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। কেউ কেউ পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট হারিয়েছেন, আবার অনেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। ফলে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
তবে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ সীমিত। যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লাইট বাতিলের পেছনে যদি বিমান সংস্থার নিজস্ব কোনো গাফিলতি না থাকে এবং পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটে, তাহলে যাত্রীরা সাধারণত নির্ধারিত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন না।
এ ক্ষেত্রে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার আকস্মিক কারিগরি ত্রুটিকে একটি অপ্রত্যাশিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে বিপর্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে সরাসরি দায়ী করা যাচ্ছে না।
তবে ক্ষতিপূরণ না পেলেও যাত্রীদের প্রতি বিমান সংস্থাগুলোর কিছু দায়িত্ব রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘ বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, পানীয় এবং সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে ফ্লাইট পরিচালনা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে আগামী কয়েক ঘণ্টাতেও বিলম্ব ও সূচি পরিবর্তনের প্রভাব থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।