৪-৫ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ নেবে ইউএস-বাংলা
আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের বড় একটি অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের বড় একটি অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। তবে নতুন চুক্তির আওতায় ঠিক কতটি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
শনিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এ তথ্য জানান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বহর সম্প্রসারণের জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যেই নতুন একটি বড় চুক্তি করার প্রস্তুতি চলছে। তবে উড়োজাহাজগুলো বোয়িং নাকি এয়ারবাস থেকে নেওয়া হবে, তা এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। নতুন চুক্তিতে কতটি উড়োজাহাজ থাকবে, সেটিও চূড়ান্ত হওয়ার পর জানা যাবে।
এর আগে বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তিতে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। গত ২৯ জুলাই ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বিয়ন্ড উইথ বোয়িং’ অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
ওই চুক্তির আওতায় ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব উড়োজাহাজ ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ধাপে ধাপে ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে ২৫টি উড়োজাহাজ নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ বহর। নতুন করে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সংস্থাটির বহর ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের এভিয়েশন খাত দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এয়ারলাইনসগুলোর বহর বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্য চালুর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের বিমান চলাচল খাতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
এই পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, নতুন রুট সম্প্রসারণ এবং কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের এয়ারলাইনসগুলোর বহর সম্প্রসারণকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নীতি সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেনসহ এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। আয়োজনটিতে স্বাগত বক্তব্য দেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।