শাহজালালের ওয়াশরুমে কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের হাই কমোডের ট্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণপেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের হাই কমোডের ট্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণপেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। একই দিনে যশোরের বেনাপোলে শরীরের ভেতরে লুকিয়ে ভারতে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আরও ৮২ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শাহজালাল বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের এক নম্বর বেল্ট সংলগ্ন ওয়াশরুমে অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিমানবন্দর সার্কেলের একটি দল। এ সময় ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংকের ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
প্যাকেটগুলোর ভেতরে পেস্ট আকারে স্বর্ণ ছিল। তবে এসব স্বর্ণের কোনো মালিককে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। উদ্ধার করা স্বর্ণপেস্টের মোট ওজন প্রায় ৪ দশমিক ২০৪ কেজি। পেস্ট থেকে স্বর্ণ আলাদা করে এর প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে এনবিআর। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর স্বর্ণের চূড়ান্ত পরিমাণ, বিশুদ্ধতা এবং প্রকৃত বাজারমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে স্বর্ণ পাচারের সময় ৮২ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বেনাপোল সার্কেল। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
এনবিআর জানায়, স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ সেপ্টেম্বর বেনাপোল ইমিগ্রেশন এলাকার জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভারতগামী এক যাত্রী আল মামুনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তার বক্তব্যে সন্দেহ থাকায় আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার শরীরের এক্স-রে করা হয়। এক্স-রে পরীক্ষায় তার রেক্টামে সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে তিনি শরীরের ভেতরে স্বর্ণ বহনের কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে তার কাছ থেকে ৮২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জব্দ করা স্বর্ণ বেনাপোল কাস্টম হাউসে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।