দীর্ঘদিনের ট্রলি সংকট কাটাতে শাহজালালে নতুন ট্রলি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ট্রলি সংকট নিরসনে নতুন করে ২০০টি ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ট্রলি সংকট নিরসনে নতুন করে ২০০টি ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৫০টি ট্রলি যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন ট্রলি সংযোজনের ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ২০০টি ট্রলি যুক্ত হওয়ায় শাহজালাল বিমানবন্দরে মোট ট্রলির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৯০টিতে। আরও ১৫০টি ট্রলি যুক্ত হলে এই সংখ্যা বেড়ে হবে ৪ হাজার ৫৪০টি।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, গত ৩ অক্টোবর কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ২০০টি ট্রলি ঢাকায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আরও ২০০টি ট্রলি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১৫০টি শাহজালাল বিমানবন্দরে রাখা হবে। বাকি ৫০টি দেওয়া হবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ট্রলি যুক্ত হলে বিমানবন্দরে আর তেমন সংকট থাকবে না। তবে একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করলে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ট্রলির ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।

গত প্রায় এক বছর ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন শেষে লাগেজ নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় ট্রলি পেতে ভোগান্তিতে পড়তেন অনেকে। কখনো কখনো একটি ট্রলি পাওয়ার জন্য যাত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিস্থিতিও তৈরি হতো।

গত হজ মৌসুমের আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি নিশ্চিত করার বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল। হজযাত্রীদের ফিরতি সময়ে ট্রলির সংকট বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা জানানো হয়। পরে ৫০০টি ট্রলি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও তা অনুমোদন না পাওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফিরতি হজ মৌসুমে ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিমানবন্দরের ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সে সময় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

সম্প্রতি ট্রলি সংকট নিয়ে আবারও যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে অসন্তোষ জানাতে দেখা যায় যাত্রীদের।

কক্সবাজার বিমানবন্দর ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ট্রলি যুক্ত হওয়ায় আপাতত সংকট কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে যাত্রীসংখ্যা ও ফ্লাইটের চাপ বিবেচনায় নিয়মিত ট্রলির সংখ্যা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রলি সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.