যাত্রী হয়রানি ও অনিয়মে শাহজালালে সিরিজ অভিযান
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে সিরিজ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে সিরিজ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ট্রলির অপব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অতিরিক্ত মূল্য আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব জরিমানা করা হয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গোপনে তথ্য যাচাই ও সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এসব অভিযান পরিচালনা করেন। যাত্রী হয়রানি, সেবায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নত করতেই এসব কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, গত এক বছরে একই টিম বিমানবন্দরে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ৫২৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এতে বিমানবন্দর এলাকায় অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এদিকে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে শাহজালাল বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ট্রলির সংকট দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের ট্রলি পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে মেরামত ও নতুন সরবরাহের মাধ্যমে বিমানবন্দরের ট্রলি বহরে ৫০০টি ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও ১ হাজার ট্রলি সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়েছে।
ট্রলির সুষ্ঠু বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিমের মাধ্যমে প্রতি শিফটে তদারকি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোথায় কত ট্রলি প্রয়োজন এবং কোন এলাকায় সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো যাত্রীর লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। অন্যদিকে লাগেজ চুরি, হয়রানি কিংবা এ ধরনের কোনো অপরাধের শিকার হলে ১ নম্বর টার্মিনালের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ এবং বডি ওর্ন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যাত্রীদের যেকোনো সহায়তা বা অভিযোগের জন্য বিমানবন্দর হটলাইন ০৯৬১৪০১৩৬০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর +৮৮০১৩০৪০৫০৬০৩-এও অভিযোগ বা প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো যাবে।