লাগেজ চুরি ঠেকাতে বদলে যাচ্ছে শাহজালাল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা, চুরি ও মালামাল হারানোর অভিযোগ কমাতে চালু হয়েছে নতুন নজরদারি ব্যবস্থা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা, চুরি ও মালামাল হারানোর অভিযোগ কমাতে চালু হয়েছে নতুন নজরদারি ব্যবস্থা। লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও বড় পর্দার মনিটর স্থাপনের পর যাত্রীসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। আগে লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও এখন অনেক যাত্রী ইমিগ্রেশন শেষ করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজেদের ব্যাগ হাতে পাচ্ছেন। পাশাপাশি উড়োজাহাজ থেকে নামানোর পর লাগেজ কোথায় যাচ্ছে, সেটিও সরাসরি দেখতে পারছেন তাঁরা।
সম্প্রতি ডিআর কঙ্গো থেকে দেশে ফেরা ফেনীর বাসিন্দা আসিফ আলী জানান, এবার বিমানবন্দরে এসে ইমিগ্রেশন শেষ করার পরপরই তিনি লাগেজ পেয়ে যান। আগের তুলনায় দ্রুত লাগেজ পাওয়ায় নতুন ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, মনিটরে লাগেজের গতিবিধি দেখা যাওয়ায় কেউ ব্যাগে হাত দিলে তা শনাক্ত করা সহজ হবে। একইভাবে ওমরাহ করে ফেরা নোয়াখালীর নোয়াব আলী ও রাশেদা বেগমও দ্রুত এবং অক্ষত অবস্থায় লাগেজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার সরাসরি নজরদারি ব্যবস্থা চালু করে। বিমানবন্দরের আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য বসানো হয়েছে ৬৫ ইঞ্চির ১৮টি মনিটর।
এসব ক্যামেরার মাধ্যমে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, পরিবহন, বাছাই এবং বেল্টে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। ফলে যাত্রীরা নিজেরাই মনিটরে দেখতে পারছেন তাঁদের লাগেজ কোথায় রয়েছে এবং সেটি ঠিকভাবে বেল্টে আসছে কি না।
এর আগে লাগেজ হারানো, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কাটা ও চুরির ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গত ১০ আগস্ট এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
কমিটি লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ছয় দফা সুপারিশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে পুরো প্রক্রিয়ায় সিসিটিভি নজরদারি, ক্যামেরার আওতাবহির্ভূত স্থানে নতুন ক্যামেরা স্থাপন, কর্মীদের শরীরে ধারণ করা ক্যামেরা ব্যবহার এবং ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং দায়িত্বে অবহেলা বা চুরির প্রমাণ পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করা হয়।
বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীরা এখন লাগেজের অবস্থান সরাসরি দেখতে পারছেন।
অন্যদিকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ দাবি করেছেন, নতুন ব্যবস্থায় লাগেজ কাটার অভিযোগ শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবালের মতে, এই উদ্যোগে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের প্রতি যাত্রীদের আস্থাও ফিরবে।
তবে নতুন ব্যবস্থা কতটা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।