সম্পাদকীয় : বিমানের দুর্নীতি দমনের উদ্যোগ, সরকারের সাঁড়াশি অভিযান সফল হোক

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পুরো সেক্টরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এটি স্বস্তিদায়ক। এরই মধ্যে দুর্নীতিবাজ চক্রের সদস্যদের তালিকা ও অনিয়ম-দুর্নীতির ফিরিস্তি চলে এসেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হাতে এবং এটির যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জানা গেছে, প্রথমে পাইলট নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিমানের পাইলট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির ঘটনা এবারই প্রথম নয়; ইতিপূর্বে কেবিন ক্রু ও জুনিয়র ট্রাফিক সহকারীসহ অন্তত ৩ শাখায় নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থীদের গড়ে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলেও সে সময় অভিযোগ উঠেছিল। নিয়োগবঞ্চিত একাধিক প্রার্থী এ বিষয়ে তখন হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন।

বস্তুত রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান সমস্যাই হচ্ছে দুর্নীতি। বিমানকে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বললেও অত্যুক্তি হয় না। সম্ভাবনাময় সংস্থাটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে মূলত সীমাহীন দুর্নীতির কারণেই। সংস্থাটির প্রায় প্রতিটি শাখায় দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। দুর্নীতি বন্ধে খোদ প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিমানে বিরাজমান দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি। বছরের পর বছর ধরে নানারকম কারসাজি ও ফন্দি-ফিকিরের মাধ্যমে প্রায় প্রকাশ্যে সিন্ডিকেট গঠন করে সংস্থাটিতে কমিশন বাণিজ্যসহ দুর্নীতি ও অপরাধ চালানো হলেও এতদিন তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ কেন নেয়া হয়নি, তা এক প্রশ্ন বটে।

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার মাধ্যমে একটি দেশ কেবল আর্থিকভাবেই লাভবান হয় না; একইসঙ্গে সংস্থাটির প্রতীক দেশের মানুষের অহংকারের বস্তুরূপে পরিগণিত হয়। বাংলাদেশ বিমানও যাতে প্রত্যেক বাঙালির অহংকারের বিষয়ে পরিণত হয়, সে উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এজন্য সর্বপ্রথম বাংলাদেশ বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির যাবতীয় তথ্য উদঘাটন করে সংস্থাটিকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং সেই সঙ্গে একে ঢেলে সাজানোর কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা উচিত। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তার সমুদয় সম্ভাবনা বিনষ্ট করতে করতে এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে পৌঁছেছে।

তবে আশার কথা, শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিমুক্ত করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সরকার যদি বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনে আন্তরিক হয়, তবে তা পরিবর্তন না হওয়ার কোনো কারণ নেই। উল্লিখিত নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ সব ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বিমান একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। সফল হোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের সাঁড়াশি অভিযান, এটাই প্রত্যাশা।

—যুগান্তর সম্পাদকীয়

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.