মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের সাধারণ ক্ষমার আহ্বান

মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) চলতি মাসের ১২ মে পর্যন্ত রাখার ঘোষণা দিলেও সোমবার (৪ মে) থেকে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে দেশটির সরকার। দেশটিতে চলমান লকডাউনের মধ্যেই অবৈধ অভিবাসীদের আটক অভিযানে নেমেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

গত কয়েকদিনে রাজধানী কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭’শ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এদিকে, এই দুরবস্থার মধ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় অভিযান না চালাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়ার বার কাউন্সিলের সভাপতি সেলিম বশির ভাস্করান।

তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসীদের আটক করে যে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে ওই পরিবেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে করে ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে ভাইরাসের বিস্তারের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, এভাবে আটক অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা গেলেও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে আসবে না। গ্রেফতার আতংকে তারা চারপাশে গিয়ে গোপন আশ্রয় খুঁজবে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত অবৈধ অভিবাসীদের প্রতি আরও নমনীয় হওয়া এবং তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অবহেলার চোখে না দেখে কোভিড-১৯ এর টেস্ট পরীক্ষা নিশ্চিত করে টেকসই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ এবং তাদেরকে বৈধ হওয়ার হওয়ার কর্মসূচি আওতায় আনা উচিত।

এদিকে একই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও মালয়েশিয়ার স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা তেনাগানিতাসহ বেশির ভাগ সংস্থাগুলোর তরফ থেকে বারবার একই দাবী জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ডা. নূর হিশাম আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, এই পর্যন্ত ২২ হাজার ৩৩৯ জন বিদেশি কর্মীর করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৮৬ জন প্রবাসীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। দেশটিতে ৪ জন বিদেশি কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এছাড়া দেশটিতে স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) রাজধানী কুয়ালালামপুরের আমপাং এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রায় ৪’শ নির্মাণ শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহ করতে একদল মেডিকেল টিম ও অভিবাসন বিভাগের পুলিশ উপস্থিত হয়। এদের মধ্যে ১৪৫ জন অভিবাসীর করোনা টেস্ট নেয়ার পর ফলাফল পাওয়ার আগেই পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ওই ভবন থেকে পালিয়ে গেলেও ১১ জনের কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এর মধ্যে ২৮ জনের করোনার লক্ষণ পাওয়ায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের হোস্টেলের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে দেশটিতে বৈধ বিদেশি শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ২৫ লাখ। তবে এই সংখ্যা ছাড়াও অনিবন্ধিত আরও অনেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে বসবাস করেন বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা।

সুত্রঃ সময় সংবাদ

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.