মিয়ানমারে অসহযোগ আন্দোলনে পঙ্গু সেনা সরকার

মিয়ানমারে জোর করে ক্ষমতা দখল করা জান্তা সরকারের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। হাসপাতালগুলো সব জনশূন্য। সরকারি অফিস-দপ্তর ফাঁকা। স্টেশনে স্টেশনে থমকে দাঁড়িয়ে ট্রেন।

গ্রেফতার-পুলিশি হয়রানি, নির্যাতন-নিপীড়ন এমনকি জীবন ও জীবিকা হারানোর ঝুঁকি নিয়ে টানা অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

অন্য দিকে সেনার নিয়োগ দেওয়া অল্প কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে এলেও তাদের প্রত্যাখ্যান করছে জনগণ। এর প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনে পঙ্গু হয়ে পড়েছে সরকার ও প্রশাসন। ফিকে হয়ে আসছে সেনাদের মিয়ানমার শাসন স্বপ্ন। দ্য ইরাবতি ও সিএনএ।

এতে সংহতি প্রকাশ করেছে কৃষক-মজুর-শ্রমিকসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ। জীবনের ঝুঁকি ও চাকরিচ্যুতির হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই কর্মবিরতি আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন সরকারি কর্মচারীরা। অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় ইতোমধ্যে অনেককেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজোনারস’ তথ্য মতে, ইউনিয়ন পার্লামেন্টের ডেপুটি পরিচালক ও এক সিনিয়র কর্মকর্তাসহ চাকরি হারিয়েছেন অন্তত ৪৮ জন সরকারি কর্মচারী। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় বহু ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য খাতের স্টাফদের টার্গেট করা হয়েছে। তার পরও এতটুকু দমছে না কেউই। সেনা সরকার ও প্রশাসনকে অকেজো করে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বেসরকারি খাতের কর্মচারীরাও। অফিস ছেড়ে তারাও রাজপথে। ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন বন্ধ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ব্যাংকও। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান এই প্রতিরোধ জান্তা সরকারের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার পুরস্কার হিসাবে ডাক্তার ও শিক্ষকদের নগদ অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর পরও কাজে ফেরেননি চিকিৎসকরা। বিষয়টি স্বীকার এক ডাক্তার এএফপিকে বলেছেন, স্টাফদের অনুপস্থিতিতে নতুন রোগীদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.