কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিলম্ব হচ্ছে
প্রতিদিন, ঘটছে যাত্রী বিড়ম্বনা। সিডিউল টাইমের অনেক পরে আকাশে উড়ছে বিমানের ফ্লাইটগুলো। এতে সাধারণ ও কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে বিশাল সমস্যায়।
বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে আসা প্রতি সপ্তাহে ৭টি ফ্লাইট বিমান যা কেএলআইএ-১ এর টার্মিনাল ব্যবহার করে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, প্রতিদিন ঘটছে এরকম ঘটনা।
এছাড়া ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরেও যাত্রীদের রয়েছে প্রচুর অভিযোগ। নিয়মিত ফ্লাইট বিলম্বের অভিযোগ পাওয়া যায় যাত্রীদের কাছ থেকে।
বর্তমানে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা রুটে এ সব অভিযোগের জন্য জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
৭ অক্টোবর বিমানের ফ্লাইট বিলম্ব ও আকস্মিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাত ২.৪৫ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকা উদ্দেশ্য ফ্লাইট ছিল।
যাত্রীরা ফ্লাইটের তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছান আনুষঙ্গিক কাজ সম্পাদনে বাংলাদেশ বিমানের কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন। কিন্ত কাউন্টারে কোনো লোকজন নেই।
সময় গড়ায় কাউন্টারের সামনে যাত্রীরা জড়ো হতে থাকেন। ফ্লাইটের সময় কাছাকাছি চলে আসলে বিমানবন্দরে থাকা দুইজন মালয়েশিয়ান ডিউটি অফিসার এসে বললেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সিডিউল পরিবর্তন হয়েছে।
শুক্রবার রাত ২টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শনিবার মালয়েশিযার স্থানীয় সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাবে। এ সময় বিমানের কোনো কর্মচারীকেও কাছে পাওয়া যায়নি কাউন্টারে।
সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মঈন উদ্দিন চৌধুরী গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিজি৩৮৭ বিমানের কুল-ঢাকা ৭ অক্টোবরের একটি টিকিট অনলাইনে ক্রয় করেন এবং বিজি৬১১, ঢাকা-চট্টগ্রাম, টু এন্ড-১ আরও একটি টিকিট ক্রয় করেন যাতে যথাসময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারেন।
কিন্তু ৭ অক্টোবর রাত যথা সময়ে কেএলঅইএ বিমানবন্দরে পৌঁছলেও বিমানের সিডিউল বিপর্যয়ে যাওয়া হয়নি গন্তব্যে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যান বাসায়।
মঈন উদ্দিন জানান, সিডিউল বিপর্যয়ের বিষয়ে ডিউটি অফিসারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। তখন ডিউটি অফিসার জানান, সিডিউল পরিবর্তন হয়েছে। অথচ সিডিউল পরিবর্তন হলে প্রত্যেক যাত্রীকে ফোন অথবা ইমেইলে জানানোর কথা। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ সেটা করেনি, অভিযোগ প্রফেসর মঈন উদ্দিনের।
এ বিষয়ে বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ সোলাইমানের কথা বলতে মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে বাংলাদেশগামী প্রায় ৩ শতাধিক শতাধিক যাত্রী।কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই বাতিল হয় ফ্লাইট।
অনাহারে, অনিদ্রায় রাত কাটাতে হয় যাত্রীদের। ক্ষোভে যাত্রীরা বলছেন, বাংলাদেশ বিমান মানেই বিলম্ব আর বিড়ম্বনা।