মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে বেনাপোল থানায় শুল্ক গোয়েন্দার মামলা

postal2আজ শুল্ক গোয়েন্দা বেনাপোল চেকপোস্টে অবৈধভাবে ৮১ লক্ষ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে বেনাপোল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক তদন্ত করা হবে। গত ১৫ জুলাই ভারত থেকে আসা মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন নামের এক যাত্রী ৮২.৩৬ লক্ষ টাকার বৈদেশিক মুদ্রাসহ শুল্ক গোয়েন্দার নিকট আটক হন।
কিন্তু বেনাপোল চেকপোস্টের রাজস্ব কর্মকর্তা জনাব উত্তম সমাদ্দারের হাত থেকে আসামী পালিয়ে যান। পরে এনবিআর দায়িত্ব অবহেলার দায়ে কাস্টমস কর্মকর্তা উত্তম সমাদ্দারকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একইসাথে বোনাপোল কাস্টমসের কর্মকর্তাদের এবিষয়ে গাফিলতি খতিয়ে দেখার জন্য দুটো পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। আসামী পালিয়ে গেলেও পাসপোর্ট ফেলে যান। এনবিআরের অনুমতিতে শুল্ক গোয়েন্দা আজ আসামী মোহাম্মদ ফরিদ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাটি করলো। মামলা নম্বর ৪২।
এখন আসামীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাসপোর্ট অনুযায়ী আসামীর পিতা: মোহাম্মদ রজ্জব আলী, কাহুরনাগারহাটি, থানা: নবাবগঞ্জ, জেলা: ঢাকা। তার পাসপোর্ট নং: বিজে ০৬৮২৩৩২।  এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা জুন মাসে মতিঝিল থানায় এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২৯৭টি কন্টেইনার পোশাক রপ্তানির টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে প্রথম মামলা করে।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আজকের মামলার ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ জুলাই সকাল ৬:৩০ টায় শুল্ক গোয়েন্দার দল বেনাপোল চেকপোস্টে অবস্থান নেয়। মন্ট ব্লাংকের ব্যাগে বৈদেশিক মুদ্রা বহন করছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন। বেনাপোল কাস্টমসে কোন ঘোষণা না দিয়ে কাস্টমস চেকিং পার হবার পর তিনি মুদ্রাসহ আটক হন শুল্ক গোয়েন্দাদ্র হাতে। মুদ্রাগুলো ব্যাগের ভেতর স্কচ টেপে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এসব মুদ্রার মধ্যে আছে আমেরিকান ডলার, কানাডিয়ান ডলার, ভারতীয় রুপি, মালয়েশিয়ান রিঙিত।
আজকে দায়ের করা মামলাটির বাদি বোনাপোল শুল্ক গোয়েন্দার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা উম্মে সালমা সুলতানা। এই আইনের সর্বোচ্চ সাজা ১২ বছরের জেল এবং আটক মুদ্রা রাষ্ট্রের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করা।
আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.