নেপালে বিমান দুর্ঘটনা: মরদেহ হস্তান্তর শুরু

নেপালের পোখারায় ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর শুরু হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বুঝিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে চারপাশ। এ ঘটনায় এখনো ৭০ জনের মরদের উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ দুজন। তাদের কেউই জীবিত নেই বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।

 

সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত হওয়া মরদেহ হস্তান্তর শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এদিন পোখারা হাসপাতাল থেকে ১০টি মরদেহ সেনাবাহিনীর ট্রাকে করে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মরদেহগুলো রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া আরও তিনটি মরদেহ পোখারায় তাদের শোকাহত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর মরদেহগুলোও ক্রমান্বয়ে হস্তান্তর করা হবে।

 

উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বছর বয়সী সংগীতা শাহির চাচা রাজ ধুংগানা পোখারা হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন, পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, সংগীতা কাঠমান্ডুর খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি মেকআপ স্টুডিও চালাতেন। এই উড়োজাহাজের চালক ছিলেন অঞ্জু খাতিওয়াদা। এর আগে ২০০৬ সালে তাঁর স্বামীও বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন।

নেপালের পুলিশ কর্মকর্তা এ কে ছেত্রী বলেন, আরও দুটি মৃতদেহের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। এ কাজে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলের দুই কিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

গত রোববার দুপুরে অভ্যন্তরীণ ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমানটি ৬৮ যাত্রী ও ৪ ক্রু নিয়ে কাঠমান্ডু থেকে পোখারা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে অবতরণের ঠিক আগে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে আগুন লেগে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী ও দমকলকর্মীরা। তবে একজনকেও জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।

নেপালে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮ যাত্রীর মধ্যে ১৫ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক। ৪ ক্রুসহ বিমানের ৭২ জন আরোহীর মধ্যে ৫৩ জন ছিলেন নেপালের, পাঁচ জন ভারতীয়, চার জন রাশিয়ান এবং দুই জন কোরিয়ান। এছাড়া আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের একজন করে নাগরিক ছিলেন ওই বিমানটিতে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.