চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী পাঠ্যবই নিয়ে অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাক্রম অনুযায়ী নির্ধারিত বই পড়ানো হয় না, তারা ব্যাপকভাবে পাঠ্যবই নিয়ে অপপ্রচারে নেমেছেন।’
আজ বৃহস্পতিবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন, ভারতের হিমাচল প্রদেশের শুলিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য অধ্যাপক অতুল খোসলা। অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন।
দীপু মনি বলেন, ‘ভুলত্রুটি যা আছে, সংশোধন করা হচ্ছে। কিন্তু যে বিষয় বইয়ে নেই, যে বিষয় যেভাবে নেই, যে কথা বইয়ে বলা হয়নি, যে ছবি ছাপা হয়নি, সেগুলো ফটোশপ করে, এডিট করে বইয়ের অংশ বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি লেখক-শিক্ষক এবং যেসব শিক্ষাবিদ-বিশেষজ্ঞরা বই প্রণয়নে কাজ করেছেন, আমরা যারা মন্ত্রণালয়ে আছি, কদর্য ভাষায় কুৎসিৎভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। হুমকিও দেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা পাঠ্যবই নিয়ে বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য যদি সৎ হতো, উদ্দেশ্য যদি হতো বইগুলো সংশোধন, তাহলে নিশ্চয় তারা মিথ্যার আশ্রয় নিতেন না। কদর্য আচরণ করতেন না। আমাদের হুমকি-ধামকিও দিতেন না। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পাঠ্যবই ইস্যু নিয়ে একটি অপশক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বইয়ে সুস্পষ্ট বলা আছে, মানুষ বানর থেকে হয়নি। সেখানে তারা দাবি করছেন, আমরা নাকি বইতে বলেছি, বানর থেকে মানুষ হয়েছে। এ মিথ্যাচার, অপপ্রচার কেন? আরে যা যা তারা বলেছেন, তার প্রত্যেকটি কথার জবাব আছে। কোনো ছবি, কনটেন্ট নিয়ে যদি কারও আপত্তি থাকে, এমনকি অস্বস্তি থাকলেও আমরা তা বিবেচনায় নেবো। যেভাবে কদর্য ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে এগুলো করছেন। কিন্তু ধর্ম এ ব্যাপারে কী বলে? সব ধর্ম বলে সত্য কথা বলতে। ইসলাম ধর্মেও বলা হয়েছে, সত্যের সঙ্গে মিথ্যাকে মিশিও না। কিন্তু তারা মিথ্যাচার করছেন, অপপ্রচার চালাচ্ছেন, গুজব রটাচ্ছেন।’
যারা মন্দ কাজ করছেন তাদের উদ্দেশ্যও মন্দ, পথও মন্দ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিশ্চয় থেমে থাকবো না। ভালো কাজ যা করার, তা করবো। শিক্ষার্থীরা যাতে আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে, বয়স অনুযায়ী সঠিক জিনিস শিখতে পারে। তবে সমাজের যে বিষয়টি সংবেদনশীল সেটি বিবেচনায় নেবো, যেখানে সংশোধন করা দরকার সেটি সংশোধন করবো। মিথ্যাচার, অপপ্রচার দিয়ে আমাদের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চয় বন্ধ করা যাবে না।’
দীপু মনি আরো বলেন, ‘ যখন নতুন কারিকুলাম শুরু হলো, আমরা দেখলাম শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া। বইগুলোর মধ্যে ভুল থাকতে পারে। আমরা বলেছি, ভুল চিহ্নিত হলে সংশোধন হবে। আমরা যখনই ভুল পাচ্ছি, তখনই সংশোধন করে দিচ্ছি। আমরা দুটি কমিটি করে দিয়েছি। একটি কমিটি বইয়ে ভুল থাকলে বলবে, সেটি আমরা শুদ্ধ করে দেবো। ভালো পরামর্শ থাকলে দেবেন, তারা যা কিছু যৌক্তিক বলেন পরামর্শ দেবেন, আমরা তা গ্রহণ করবো। আরেকটি কমিটি করে দিয়েছি, কারণ কেউ কেউ বলেছেন, এর মধ্যে চক্রান্ত আছে, ষড়যন্ত্র আছে। এগুলো তদন্ত করে দেখবেন কমিটির সদস্যরা।’